kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ

প্রতিবন্ধিতার ধরন বিবেচনায় নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা উচিত—হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে তিন মাসের মধ্যে বিধি প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ সচিব, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এ এফ এম মোস্তফা মাসুদের দুটি বিষয়ের খাতা সাবধানতার সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন করে যথাযথ নম্বর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মোস্তফা মাসুদের রেজাল্ট শিট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট গত ২২ আগস্ট এ রায় দেন। গতকাল সোমবার এ রায়ের কপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী এ এফ এম মোস্তফা মাসুদের বাবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের করা এক রিট মামলায় এ রায় দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জুলহাস উদ্দিন আহম্মদ।

এ রায়কে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই রায়ের ফলে সরকার দ্রুত একটি যথাযথ বিধি তৈরি করবে বলে আশা করি। আর ওই বিধি করার পর সুবিধাভোগী হবে দেশে আমার ছেলের মতো থাকা অসংখ্য শিক্ষার্থী। যাদেরকে আমাদের সমাজ একটি বোঝা মনে করে। তিনি বলেন, একটু সহানুভূতি পেলেই যে প্রতিবন্ধী এসব শিক্ষার্থী সমাজের সম্পদ হতে পারে।

রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা রয়েছে। তেমনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেরও একটি নীতিমালা আছে। কিন্তু সেই নীতিমালায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে, তার কোনো উল্লেখ নেই। তাই শিক্ষার্থী কোন ধরনের প্রতিবন্ধী তা বিবেচনা করে সেভাবেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা উচিত। রায়ে বলা হয়, দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন ধরনের যত্ন ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই সব সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রায়ে বলা হয়, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পরীক্ষার পর পরীক্ষক যাতে সতর্কতার সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এ নিয়ে নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। কারণ তারা (প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী) সমাজের অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো নয়।

রায়ে বলা হয়, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর ১৬(১) ও (২) ধারায় শিক্ষার সব স্তরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তি কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা