kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবাসন খাত

নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি তিন মাসেও

ফারজানা লাবনী   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কম দামে সাধারণ মানুষকে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সুযোগ করে দিতে গত মে মাসে নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুমোদন দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলতি বাজেটেও নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে গত তিন মাসেও তা কার্যকর হয়নি। কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তাও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে সম্ভাবনাময় আবাসন খাত লোকসানে পড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেকে অর্থপাচার করে বিদেশে ফ্ল্যাট-প্লট কিনছে।’

আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সর্বশেষ হিসাবে, রিহ্যাবের ৯৯৩ সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়েছে। এর বাইরে রিহ্যাবের সদস্য নয় যারা, দেশজুড়ে তাদের আরো কয়েক হাজার প্লট-ফ্ল্যাট অবিক্রীত পড়ে আছে।

রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিবন্ধন ফি বেশি থাকায় ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে ব্যয় বেশি হচ্ছে। এতে বেশির ভাগ ক্রেতা ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই ফি কমানোর দাবি করছি আমরা। আমাদের দাবি বিবেচনা করে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নিবন্ধন ফি কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। চলতি বাজেটেও নিবন্ধন ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। অথচ কী হারে কমানো হবে, কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। দেশজুড়ে রিহ্যাবের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়টি জানতে চাচ্ছেন। কারণ তাঁদের অনেক ক্রেতা প্লট কিংবা ফ্ল্যাট পছন্দের পর নিবন্ধন ফি কমার অপেক্ষায় আছে। আমরা বারবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করছি। কিন্তু তারা আমাদের সদুত্তর দিতে পারছে না।’

নিবন্ধন ফি কমানোর প্রস্তাব নিয়ে রিহ্যাব এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে এনবিআর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য কানন কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনবিআর থেকে নিবন্ধন ফি কমানোর প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কবে নাগাদ জবাব আসবে, তা আমরা জানি না। আসার সঙ্গে সঙ্গে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে দেবে।’

রিহ্যাব সূত্র জানায়, বর্তমান অর্থ আইনে নিবন্ধনসংক্রান্ত ব্যয়ের মধ্যে গেইন কর ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ৩ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটসহ মোট নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ।

চলতি বাজেট প্রণয়নের আগে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন জানিয়ে গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১.৫ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ, মূসক ১.৫ শতাংশ, এভাবে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি ৭ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান।

রিহ্যাবের প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে নিবন্ধন ফি অনেক বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে আগ্রহী নয় ক্রেতারা। ফলে সরকার এ খাতের প্রত্যাশিত রাজস্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিবন্ধন ব্যয় বেশি। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশে নিবন্ধন ব্যয় ৪-৭ শতাংশের বেশি নয়।

আবাসন খাতের দাবি যৌক্তিক বলে চলতি বছরের এপ্রিলে এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছিলেন, ‘১৪-১৬ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় বেশি। এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার এবং আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।’

এনবিআর থেকে গত ২৯ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে নিবন্ধন ফি কমাতে পৃথক চারটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে চারটি সারসংক্ষেপে বলা হয়, ‘নিবন্ধন ব্যয় কমাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে স্ট্যাম্প ডিউটি ৩ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ থেকে ১.৫ শতাংশ এবং মূসক ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ নির্ধারণে অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।

আবাসনশিল্প খাত দেশের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক আয়ের খাত। জাতীয় উন্নয়নে এ খাতের অবদান শতকরা ২১ ভাগ। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার বাসস্থানের চাহিদা পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ২৭০টি শিল্প খাত ও উপখাতে অন্তত ১২ হাজার শিল্প-কারখানা চালু রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৭৫ হাজার কোটি টাকা। খাতটির সঙ্গে দেশের আড়াই কোটি মানুষের রুটি-রুজি জড়িত। এ খাতের ৫০ শতাংশ ক্রেতা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রবাসী বাংলাদেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা