kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

যত্রতত্র চিকিৎসা বর্জ্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রোগীরা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পশ্চিম পাশে জরুরি বিভাগ, প্রিজন সেল ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ। এর পেছনেই দেয়াল ঘেঁষে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য। ফলে এর দুর্গন্ধে অসুস্থ কারাবন্দি ও মানসিক রোগীদের হাসপাতালে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় উন্মুক্ত ওই স্থানে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবাণুবাহী এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহৃত সুঁই, সিরিঞ্জ, প্লাস্টিকসহ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপসারণ করার কথা। পাশাপাশি প্যাথলজিক্যাল তরল বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে অপসারণ এবং তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি পরিবেশসম্মতভাবে ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু শেবাচিম কর্তৃপক্ষ তা না করে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্যগুলো ফেলে রাখছে। এতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পুরো হাসপাতাল এলাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্যাথলজিক্যাল তরল বর্জ্য পরিশোধন ও জীবাণুমুক্ত করে অপসারণের জন্য ২০১১ সালে সিএমএসডি থেকে ইনসিনারেটর ও অটোক্লেভ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মেশিন দুটি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ রোগীর বর্জ্য অপসারণ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পানির ট্যাংকি এলাকা, প্রিজন সেল ও মানসিক ওয়ার্ডের পেছনে উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে চিকিৎসা বর্জ্য। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অপারেশনে ব্যবহৃত শরীরের পরিত্যক্ত অংশ, দূষিত রক্ত, মলমূত্র ইত্যাদি। এ ছাড়া হাসপাতালের পূর্ব পাশে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিস) এবং হাসপাতালের নতুন এক্সটেনশন ভবনের মাঝের রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে রোগীদের সৃষ্ট বর্জ্য। এসবের মধ্যে রয়েছে ডাবের খোসা, ওষুধের খোসা, নানা ধরনের খাবার, রোগীদের ব্যবহৃত গজ ও ব্যান্ডেজ। এসব বর্জ্যে দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে পুরো হাসপাতাল এলাকায়। আর এসব বর্জ্য পরিশোধনের জন্য হাসপাতাল চত্বরের খেলার মাঠের বিপরীতে টিন দিয়ে স্থাপিত ইনসিনারেটর ও অটোক্লেভ মেশিনের ঘরটি অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরটির চারদিকে আগাছার জন্ম নেওয়ায় সেটা তেমন একটা চোখে পড়ছে না।

এক চিকিৎসক বলেন, ২০১১ সালে শেবাচিম হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংসকারী মেশিন দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দক্ষ অপারেটর না থাকায় বছরখানেক পরই ওই মেশিন বিকল হয়ে যায়। পরে তা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো পরিশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিসিসির ডাম্পিং ইয়ার্ডে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংস করার ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, বিসিসির ডাম্পিং ইয়ার্ডের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের তেমন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সংগ্রহের পর ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো আলাদা করে দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের যন্ত্র ব্যয়বহুল, এ মুহূর্তে বিসিসির অর্থায়নে কেনা সম্ভব নয়।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির বলেন, ‘হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংসকারী মেশিন দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তা পরিচালনার মতো দক্ষ অপারেটর না থাকার কারণে মেশিন দুটি প্রায় সাত বছর আগেই অচল হয়ে গেছে। ফলে হাসপাতালে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যায়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা