kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেসবুকে বৃদ্ধের অসহায়ত্বের ছবি অবশেষে হাসপাতালে ভর্তি

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে সোয়াইতপুর পাকা সড়কের পাশে পলিথিনের ছাউনির নিচে মাটিতে শয়ান ষাটোর্ধ্ব আমজাদ আলীর শরীর ধুলাবালি আর মশামাছিতে ছেয়ে গেছে, এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েক দিন আগে। সেই বৃদ্ধকে গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিনুর মল্লিক জীবন। 

স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় আমজাদ আলীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর শাহিনুর জানান, বৃদ্ধের একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাইফুল বাবার দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আমজাদ আলী কথা বলতে পারছেন না। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন, যেগুলো ফুলবাড়িয়া হাসপাতালে করানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. শাহ্ মো. আসাদুজ্জামান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবানীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের হতদরিদ্র আমজাদ আলী একসময় ভ্যান-রিকশা চালাতেন এবং দিনমজুরি করতেন। কিন্তু বয়সের কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় তিন বছর আগে তাঁকে ফেলে চলে যান স্ত্রী সালেহা খাতুন। পরে একমাত্র ছেলে সাইফুল মারপিট করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর আমজাদ আলী সোয়াইতপুর গ্রামে বড় ভাই নবী হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। দারিদ্র্য আর বাড়িতে জায়গার অভাবের কারণে নবী হোসেন আছিম সোয়াইতপুর পাকা সড়কের পাশে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে আমজাদ আলীর থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে থেকেই ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবন চালাচ্ছিলেন আমজাদ। কিন্তু প্রায় ছয় মাস ধরে একেবারে অসুস্থ এ বৃদ্ধ ভিক্ষার জন্যও বের হতে পারছেন না। ফলে প্রায় সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে।

নবী হোসেন বলেন, ‘নিজেরই থাকার জায়গা নেই, এক বেলা খাবার পেলে আরেক বেলা পাই না, মাঝেমধ্যে নিজেও ভিক্ষা করি। ভাইকে খাওয়াব, চিকিৎসা করাব কী দিয়ে?’

আমজাদ আলীর ছেলে সাইফুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা