kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি

অভিযুক্ত ৮ ডাকসু নেতাসহ ডিনের পদত্যাগ দাবি

ডাকসু ও হল সংসদে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত আট নেতার বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে নিয়মের বাইরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিযুক্ত ৮ ডাকসু নেতাসহ ডিনের পদত্যাগ দাবি

জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া অছাত্রদের ডাকসুর পদ শূন্য করে উপনির্বাচনের দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত আট নেতার বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে নিয়মের বাইরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এসব নেতাসহ ভর্তির সুযোগ দেওয়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গতকাল রবিবার বিকেলে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফারুক হাসান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের সভাপতি সালমান সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশত শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে অনিয়মের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পরীক্ষা ছাড়া ডাকসু নেতা আমাদের নেতা নয়’, ‘ডাকসুর জালিয়াত, ঢাবি ছাড় ঢাবি ছাড়’, ‘এক দুই তিন চার, দালাল ভিসি গদি ছাড়’, ‘যে ডাকসু অছাত্রদের, সেই ডাকসু চাই না’ লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে যাঁরা অবৈধভাবে ভর্তি হয়ে ডাকসুর নেতা হয়েছেন, তাঁদের ছাত্রত্ব ও পদ বাতিল করে স্থায়ী বহিষ্কার, ওই পদগুলোতে দ্রুত উপনির্বাচন দেওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ও উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন চিরকুটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ৩৪ জন নেতাকে যে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশবিরোধী কাজ। এ ঘটনার প্রকাশের পর তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত। এ ছাড়া ডাকসুর পদগুলো থেকে ছাত্রলীগের আট নেতাকে বহিষ্কার করে তাঁদের শূন্য পদগুলোতে পুনরায় উপনির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

জানা গেছে, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রগ্রামে ভর্তি হন। নিয়মবহির্ভূত উপায়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়সীমার পর ছাত্রলীগের এসব নেতা উপাচার্য ও ডিনের সুপারিশে ভর্তি হন তাঁরা। অভিযুক্ত ডাকসুর নেতারা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ ইবনে আলী, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর, সদস্য মো. রাকিবুল হাসান, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও নিপু ইসলাম তন্বী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা