kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন রোহিঙ্গাদল ফিরিয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ কানাডার

এনজিওদের ব্যাপারে কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমার থেকে নতুন করে আসা একদল রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় না দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে কানাডা। রোহিঙ্গারা এখনো আসছে এবং বাংলাদেশ তাদের আর আশ্রয় দিচ্ছে না—এমন একটি খবর প্রসঙ্গে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এক টুইট বার্তায় কানাডার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত বব রে লিখেছেন, ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়। কারণ এ থেকে রোহিঙ্গা হিসেবে রাখাইনে বসবাসের ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের নীতি পরিবর্তনের বিষয়টিই নিশ্চিত হয়। বিশ্ব এই সংকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না।’

এদিকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার গতকাল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা শিবিরে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ব্যাপারে সরকারের কড়াকড়ির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। ওই সাক্ষাতের পর ওবায়দুল কাদের নিজেই এনজিওগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ হওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি, কিছু এনজিওর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কাছে অভিযোগ এসেছে। এনজিওগুলো মোনাজাত করবে বলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক মহাসমাবেশ করেছে। এই সমাবেশে কিছু কিছু এনজিওর সহায়তার বিষয়ে সরকার অবগত হয়েছে। অভিযোগগুলো সরকার খতিয়ে দেখছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছি। নানা ধরনের অভিযোগ আসে, কোনোটা সত্য আবার কোনোটা সত্য নাও হতে পারে। এ বিষয়টি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছি।’ 

ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরো বলেছে, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ যে মানবিকতা দেখিয়েছে তা বিশ্বে বিরল। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র একমত।

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন সমস্যার কথাও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে জানান ওবায়দুল কাদের। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশ আর বহন করতে পারছে না। রোহিঙ্গাদের কারণে এ দেশের ভৌগোলিক, পর্যটন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক—সব কিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির কথা বললেও রোহিঙ্গা সংকটের মূল হোতা মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল অং মিন হ্লাইংসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও দুটি সামরিক ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আবার গত সপ্তাহে আসিয়ানের আওতায় মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গেও থাই উপসাগরে নৌ মহড়া দিয়েছে।

অন্যদিকে বব রে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে কানাডার মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পেলেও সু চির সরকার এখনো তাঁকে মিয়ানমারে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা