kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গাজীপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২ রেস্তোরাঁ বিধ্বস্ত, আহত ১৮

রহস্য উদ্ঘাটনে র‌্যাব ও পুলিশের বিস্ফোরক টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গাজীপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২ রেস্তোরাঁ বিধ্বস্ত, আহত ১৮

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের রাঁধুনী রেস্তোরাঁয় শনিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে আহত হয় ১৮ জন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের মুনসুর মার্কেটে অবস্থিত রাঁধুনী রেস্তোরাঁয় শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৮ জন আহত হয়েছে। রহস্যজনক ওই বিস্ফোরণে রাঁধুনী রেস্তোরাঁ ছাড়াও এর পাশের তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় একটি বেসরকারি ব্যাংকসহ আশপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ও আসবাব ভেঙেচুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিস্ফোরণে ব্যাংকের মেঝে উড়ে যাওয়ায় এবং ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রবিবার আইএফআইসি ব্যাংকের ওই শাখার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সকাল থেকেই ব্যাংকের ভল্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র টঙ্গী শাখায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিস্ফোরণের ব্যাপকতা এতটাই ছিল যে ওই দুই রেস্তোরাঁর দেয়াল, পাকা সিঁড়ির অংশবিশেষ, সামনের ড্রেনের ওপর থাকা কংক্রিটের বিশাল স্লাব, শাটার, সিলিং ফ্যান, চেয়ার-টেবিল, জানালার গ্রিলগুলো উড়ে গেছে। এগুলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পেরিয়ে প্রায় দেড় শ গজ দূরে হাজি মোহর খান মসজিদের সামনে গিয়ে পড়েছে। বিক্ষিপ্ত কংক্রিটের আঘাতে ভেঙে গেছে মসজিদের মিনারে (৬ তলায়) থাকা মাইক। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে পাঁচতলা ওই মসজিদসহ আশপাশের ভবনের কাচ। ঘটনার পর খুঁটি হেলে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে ওই এলাকা বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ১৮ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাত থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রাখে।

ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে রেস্তোরাঁর শ্রমিক-কর্মচারী, রিকশাচালক, পথচারীসহ ১৮ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে রাঁধুনী হোটেল যে ভবনে তার মালিক জালালুদ্দিন এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। পাশের ভবনের মালিক আহমদ আলী ধারণা করছেন, কেউ শত্রুতাবশত এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া রাঁধুনী রেস্তোরাঁর মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ভবনের নিচের স্যুয়ারেজ লাইনে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এমন হয়ে থাকতে পারে।’

স্থানীয়দের কেউ মনে করছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে, কেউ বলছে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ থেকে, আবার কেউ বলছে সামনের ড্রেনে সৃষ্ট গ্যাস থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে রবিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ বা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কেউ বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানাতে পারেনি। রহস্য উদ্ঘাটনে র‌্যাব ও পুলিশের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানান গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন।

রবিবার সকালে বোর্ডবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে মুনসুর মার্কেটের সামনে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে রাঁধুনী ও তৃপ্তি রেস্তোরাঁর গ্রিল কাবাব তৈরির মেশিন, ফ্রিজ, সিলিং ও টেবিল ফ্যান, চেয়ার-টেবিল, থালা-বাসন, ইট-সুরকি প্রভৃতি। একপাশে একটি ভ্যানগাড়িতে দুটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার। পড়ে আছে আশপাশের ভবন থেকে খসে পড়া দরজা-জানালা, এসি, সাইনবোর্ডসহ নানা জিনিসপত্র। পুলিশ ক্রাইমসিন লেখা টেপ দিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।

যে ভবনে রাঁধুনী রেস্তোরাঁ সেটি বেজমেন্টসহ চারতলা। বেজমেন্ট ও নিচতলায় রাঁধুনী রেস্তোরাঁ, দ্বিতীয় তলায় আইএফআইসি ব্যাংক এবং তৃতীয় তলায় মিউজিক প্যালেস রেস্টুরেন্ট নামে একটি চাইনিজ খাবারের দোকান। ভবনটি বেশ পুরনো। এ ভবনের উত্তর পাশে একই মালিক পরিবারের আরেকটি পাঁচতলা ভবন। পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, দ্বিতীয় তলায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ওপরের দিকে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিস্ফোরণে দেয়াল উড়ে গিয়ে রাঁধুনী ও তৃপ্তি রোস্তারাঁ একাকার হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঁধুনীর ভবনটি। বেজমেন্ট ও দ্বিতীয় তলার সব কলাম ভেঙে গেছে। ভেঙে গেছে তৃতীয় তলায় থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের ফ্লোরও। ভবনের সামনের ড্রেনের সব স্লাব উড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে ভবনটি। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাশের ভাই ভাই মার্কেট ও মসজিদটিও। ব্যাংকের স্ট্রংরুম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, এসি ও ডেকোরেশন সব লণ্ডভণ্ড অবস্থায় রয়েছে।

আশপাশের লোকজন জানায়, রাঁধুনীতে অবৈধ তিতাস গ্যাসের সংযোগও ছিল। বোর্ডবাজার এলাকায় কিছু কিছু সময় গ্যাসের প্রেসার কম থাকে। তখন রেস্তোরাঁ দুটিতে অবৈধ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হতো। অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করায় দুইবার রাঁধুনীকে জরিমানাও করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার পরও তারা অবৈধ গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করেনি। ওই অবৈধ গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের অনেকের। আবার অবৈধ সিলিন্ডার থেকেও বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাস্থলে দুটি সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অনেকে মনে করছে, ভবনের সামনের বড় ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে গত রমজানে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাই ড্রেনের বিষাক্ত গ্যাস জমেও বিস্ফোরণ হতে পারে। আবার কেউ কেউ নাশকতার সন্দেহও করছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাঁধুনী রেস্তোরাঁর রুটির কারিগর জমির উদ্দিন (২৬) বলেন, ‘তখন রাত ১টা ৪০ মিনিট। আমরা রেস্তোরাঁ বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা