kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পটুয়াখালীতে বাদীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে খুন

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের লোকজন কবিরকে কুদ্দুসের বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পটুয়াখালীতে হত্যাচেষ্টার একটি মামলার বাদীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক আসামির বাড়িতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কুম্ভখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. কবির হোসেন বয়াতি (৩৫)।

জানা গেছে, কুম্ভখালী গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল স্থানীয় মো. কুদ্দুস হাওলাদারের (৫০)। ওই বিরোধের জের ধরে কুদ্দুসের লোকজন গত ২০ জুলাই রাতে কবির হোসেনের ঘরে ঢুকে তাঁর ছেলে সজীবকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই ঘটনায় ২৩ জুলাই সজীবের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে কুদ্দুসসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি মামলা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় কুদ্দুস ও তাঁর লোকজন।

গতকাল রবিবার ছিল হত্যাচেষ্টা মামলার হাজিরার দিন। আগের দিন শনিবার কবির হোসেন ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। বিকেলে বাড়ি থেকে বগা বন্দরে যাচ্ছিলেন তিনি। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কুদ্দুস হাওলাদারের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের লোকজন কবিরের পথরোধ করে। তারা তাঁকে কুদ্দুসের বাড়িতে ধরে নিয়ে যায় এবং হাত-পা ও মুখ বেঁধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় কবিরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে তারা। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং রাতে পৌনে ১০টার দিকে কবিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কবিরের বড় ভাই আব্দুল হালিম বয়াতি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদারের নির্দেশে এবং তাঁর উপস্থিতিতে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানও আমার ভাইকে বলেছিল। কিন্তু আমার ভাই তাঁর কথা শোনেনি।’

ছোট ভাই মো. রফিক বলেন, ‘মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রায়ই হুমকি দিত কুদ্দুস ও তার লোকজন। আমার ভাইকে যারা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা সবাই চেয়ারম্যানের লোক।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘একটি মহলের ইন্ধনে আমাকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমি শনিবার বিকেল থেকে পটুয়াখালী ছিলাম এবং রাতে বাড়ি ফিরেছি। আমি এ হত্যাকাণ্ডে আদৌ জড়িত না।’

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা