kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাউন্টারে মেলে না শীতাতপের টিকিট

রাজশাহী-ঢাকা পথে আন্ত নগর ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহী-ঢাকা পথে এখন চলাচল করে চারটি আন্ত নগর ট্রেন। এই চার ট্রেনের এসি (শীতাতপ) চেয়ার বা এসি বাথ/সিটের টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে যেন সোনার হরিণ! প্রতিদিন এই তিন শ্রেণির যে টিকিট বিক্রি হয়, তাতে যাত্রীরা কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পাওয়ায় রয়েছে নানা ক্ষোভ। ভিআইপি ও প্রভাবশালী ছাড়া সাধারণত এ টিকিট পৌঁছায় না সাধারণ যাত্রীদের কাছে। ফলে সব সময় রাজশাহীর কাউন্টারে এসি টিকিটের জন্য চলে হাহাকার। তবে মজার ব্যাপার হলো, মাস শেষে যখন পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কাছে টিকিট বিক্রির হিসাব গিয়ে জমা পড়ে, তখন এই এসির টিকিটই আসনসংখ্যার চেয়ে কম বিক্রি (অবিক্রীত) হচ্ছে বলে কাগজে-কলমে উঠে আসে। অথচ সাধারণ শোভন চেয়ারের টিকিট প্রতি মাসেই আসনসংখ্যার চেয়ে বেশি পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে বলেও হিসাবে বলা হচ্ছে। আশ্চর্যজনক হলেও এমনই ঘটনা ঘটছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে।

এদিকে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোনো মাসেই এসির টিকিট অবিক্রীত থাকে না। কাউন্টার থেকে যেভাবেই হোক টিকিটগুলো বিক্রি হয়ে যায়। হয় ভিআইপি, প্রভাবশালী, লাইনে দাঁড়িয়ে অথবা কালোবাজারে যেভাবেই হোক না কেনো এসির টিকিট অবিক্রীত থাকে না। তাহলে মাস শেষে জমা হওয়া পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের হিসাবে এসির টিকিটে কেন এই গরমিল—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এসির সব টিকিটই রাজশাহী স্টেশন থেকে থাকে না। অনেক টিকিটই থাকে বঙ্গবন্ধু স্টেশন বা চাটমোহর স্টেশন থেকে। সে ক্ষেত্রে ওখান থেকে আবার অনেক টিকিট অবিক্রীত থাকে। আবার এসির স্ট্যান্ডিং টিকিটও বিক্রি করা যায় না। এ কারণে মাস শেষে কিছু টিকিট অবিক্রীত থাকে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই লাভ দেখলে হবে না। আগে দেখতে হবে যাত্রীসেবা। তারপর ব্যবসা। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে হলেও রেলসেবা দিতে হয়। এটি যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। নিয়মের ব্যত্যয় না হওয়ায় কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে ঢাকার পথে চলাচলকারী আন্ত নগর সিল্কসিটি ট্রেনটিতে এসি সিট/বাথ আসন ১৪৪টি। মাসে ২৬ দিন চলাচল করলে ট্রেনটির আসনসংখ্যা বা টিকিট দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৮৭টি। কিন্তু গত জুনে এই ট্রেনের টিকিট বিক্রির হিসাবে দেখানো হয়েছে তিন হাজার ৭১টি। একই ট্রেনের এসি চেয়ারের সংখ্যা ১৫৬টি। সেটি মাস শেষে আসনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় চার হাজার ৫৬টি। কিন্তু ওই মাসে তিন হাজার ২২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে হিসাবে দেখানো হয়। আবার সাধারণ শোভন চেয়ারের সংখ্যা হলো প্রতিদিন ৮৩০টি ছিল ওই মাসে। সেই হিসাবে মাস শেষে গিয়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৫৮০টি। কিন্তু জুন মাসে ৩৮ হাজার ৫১৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এসব টিকিট বিক্রি করে ওই মাসে আয় হয় এক কোটি ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫২৫ টাকা। আবার সিল্কসিটি ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ট্রেনে জুনে এসি সিট/বাথের টিকিট বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৭১টি, এসি চেয়ার তিন হাজার ৮৫৪টি এবং শোভন চেয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার ১৩৪টি।

এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কমপক্ষে ২০ কর্মকর্তা থাকেন ঢাকায়। এসব কর্মকর্তা মাসে সাত-আটবার বা তারও বেশিবার ঢাকায় যাতায়াত করেন। এই কর্মকর্তাদের জন্য এসি সিট/বাথ অথবা এসি চেয়ার টিকিট রাখতে হয়। ফলে বেশ কিছু টিকিট অবিক্রীত থেকে যায় প্রতি মাসে, প্রতিটি ট্রেনেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসি টিকিট মাস শেষে কিভাবে অবিক্রীত থাকছে, সেটির তদন্ত করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপককে একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমি যে কয় দিন আছি ট্রেনের যাত্রীসেবা নিয়ে কাউকে অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা