kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হবিগঞ্জে শিশুর চোখ নষ্ট শিক্ষকের বেত্রাঘাতে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল রবিবার শিক্ষকের বেতের আঘাতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল, পরে সিলেট ওসামানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম হাবিবা আক্তার (৮)। সে যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নিরঞ্জন দাশ। তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেছেন, এটা তাঁর অনিচ্ছাকৃত ভুল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ হাবিবাকে লক্ষ্য করে তাঁর হাতের একটি বেত ছুড়ে মারেন। এতে বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখে আঘাত করে। এতে চিৎকার করে কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। তখন শিশুটির চোখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ নিয়ে পুরো বিদ্যালয়ে হৈচৈ শুরু হয়। তা শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। তারা হাবিবা আক্তারকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় তাকে পরীক্ষার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে রেফার করেন। পরে তার স্বজনরা ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যান।

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় জানান, বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখের ভেতর আঘাত করায় তার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ওই সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। যারা পড়া পারছিল না তাদের টুকটাক বেত্রাঘাত করি। কিন্তু ওই ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈচৈ করলে আমি তাদের বারবার ধমক দেই। কিন্তু তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হাতে থাকা একটি বেত ছুড়ে মারলে তা গিয়ে হাবিবার চোখে লাগে। এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভূল। ওই ছাত্রীকে আমি চিকিৎসার জন্য সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। যত ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তা আমি করাব।’

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মাসুক আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। এখন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষকের বেত নিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়া এবং এ ধরনের ঘটনা কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘বেত দিয়ে আঘাত করার তো বিধানই নেই। শুধু তাই নয়, শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। যদি কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা