kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চাই আক্রান্তদের সুরক্ষা

২০ থেকে ৪০ শতাংশ এডিস ডিম থেকে ভাইরাস নেয়, বাকিরা নেয় মানুষ থেকে ♦ খুলনা ও ঢাকায় দুজনের মৃত্যু

তৌফিক মারুফ   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষকে যাতে মশা নতুন করে কামড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিস মশা যদি তাদের কামড়ায়, তবে তাদের শরীর থেকে ডেঙ্গুর ভাইরাস নিয়ে ওই মশা অন্য মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে। তাঁরা বলছেন, মশা নিয়ে মানুষ যতটা উদ্বিগ্ন বা সচেতন, ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষকে যাতে মশায় নতুন করে কামড়াতে না পারে সে ব্যাপারে ততটা এখনো সচেতন নয়। এবার ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে আক্রান্ত মানুষের মাধ্যমেই বেশি ভাইরাস ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রোগতত্ত্ববিদরা।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ডেঙ্গু থেকে রক্ষায় সুস্থ মানুষের জন্য মশারি ব্যবহার যতটা অপরিহার্য, তার চেয়েও আরো অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন মানুষকে মশারির ভেতরে রাখা। কারণ মশারি না থাকলে বা সতর্ক না থাকলে আক্রান্ত মানুষের শরীরে যতটি এডিস মশা কামড় দেবে তার প্রতিটি মশাই আরো অনেকের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ পাবে।

রোগতত্ত্ববিদ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব এডিস মশাই ডেঙ্গু ভাইরাস জন্ম থেকে বহন করে না। সাধারণত শুধু ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নারী এডিস মশা প্রজননকালীন ডিম থেকে ভাইরাস বহন করে। এ ছাড়া পুরুষ এডিসেও ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে। তবে শুধু নারী এডিসই যেকোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ থেকে ভাইরাস বহন করে তা অন্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। এই চক্রের কারণেই ডেঙ্গু এবার ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বেশি ছড়িয়ে থাকতে পারে।’

ঢাকায় এলাকা বদলাচ্ছে আক্রান্তের হারে : এদিকে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের এলাকায় ঘটছে হেরফের। একেক সময় একেক এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি-কম হচ্ছে। এর কারণ খুঁজতে শুরু করেছেন রোগতত্ত্ব গবেষকরা।

আইইডিসিআর সূত্র জানায়, গত দুই মাসে ঢাকার ১০৯টি এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, রাজধানীর মগবাজারে সব সময়ই আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরার একাংশে জুলাইতে কম থাকলেও আগস্টে বেড়ে গেছে। রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, মেরাদিয়া ও জাফরাবাদেও ছিল একই অবস্থা। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, মহাখালী, বাড্ডা, সিদ্দিকবাজার, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগরসহ আরো কিছু এলাকায় জুলাইয়ের চেয়ে তুলনামূলক আক্রান্তের হার কমে গেলেও অন্য এলাকার চেয়ে আগস্টে তা বেশি ছিল।

২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ১৫৪ জন, নতুন ভর্তি ৭৬১ : এদিকে আগের দিনে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৬০৭ হলেও এক দিনের মাথায় তা বেড়ে ৭৬১ জনে উঠেছে। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৫১৪। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল সকাল ৮টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৩১৪ জন, যা আগের দিন ছিল ২৩৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ৭৪৭ জন, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৩৭৪ জন।

১০১ জনের তথ্য পর্যালোচনায় ৬০ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে : এদিকে আইইডিসিআর তাদের কাছে আসা তথ্য থেকে আরো তিনজনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বলে নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে মোট ১৯৭ জনের মধ্যে ১০১ জনের তথ্য পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্য থেকে মোট ৬০ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি।

আরো দুজনের মৃত্যু : খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আশিকুজ্জামান (৩৭) নামের এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের খুলনা অফিস থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায়। এদিকে গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নাজমা বেগম নামের একজন মারা গেছেন। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তাঁর কিডনি বিকল ছিল, ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা