kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মৃত ও ভারতে থাকা ব্যক্তি সাক্ষী!

নবীনগরের আল-আমীন হত্যা মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামের আল-আমীন (২২) হত্যা মামলার চার্জশিটে অদ্ভুত ধরনের ঘাপলার অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর মারা যান শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফ। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাঁর সাক্ষ্য নেওয়ার তারিখ দেখানো হয়েছে পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। ব্যবসায়ী অজন্ত কুমার ভদ্র ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি ভারত গিয়ে দেশে ফেরেন ৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ ওই হত্যা মামলায় ৩১ জানুয়ারি তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘাপলার বিষয় তুলে ধরা হয়। আল-আমীন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ছয় নম্বর আসামি আনু মিয়া ওরফে আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতিমধ্যে চার্জশিটভুক্ত ২৪ জন সাক্ষী এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতকে বলেছেন, তাঁরা কোনো ধরনের সাক্ষ্য দেননি। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (বর্তমানে জামালপুরে দায়িত্বরত) পরিদর্শক হারুন অর রশিদ এ ধরনের ‘অদ্ভুত’ চার্জশিট দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে খুন হন আল-আমীন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জেলার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় ও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলায় সেমন্তঘর গ্রামের আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, তাঁর ছেলে পলাশসহ (ইফতেখার মাহমুদ) পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত করে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রথমে সিআইডি ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দুটি সংস্থার তদন্তে প্রকাশ পায়, আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে আল-আমীনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেনের জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। হান্নানকে শায়েস্তা করতে নিজের শ্যালক আল-আমীনকে হত্যা করে জাকির হোসেন। দুটি সংস্থাই জাকির হোসেন (৩৮), তাঁর সহযোগী বিল্লাল (৩৭), শাওন ওরফে রানা (৪২), মোবারক মিয়া (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত বলে চার্জশিট দেয়। অন্যদিকে মামলাটির সর্বশেষ তদন্তে পিবিআই ওই চারজনকে নির্দোষ বলে চার্জশিটে উল্লেখ করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তদন্ত করে যা পেয়েছি চার্জশিটে তাই দিয়েছি। সাক্ষীদের স্বাক্ষরও আছে আমার কাছে। আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আদালতে জবাবদিহি করব। সংবাদ সম্মেলন করে আমার মানহানি করে উনার কী লাভ হবে? উনি চার্জশিটে অভিযুক্ত বলে এখন নানা ধরনের কথা বলে বেড়াচ্ছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা