kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিশোর গ্যাংয়ের আবির্ভাব

ছেলে-মেয়েরা কে কী করছে লক্ষ্য করুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, কিশোররা যদি অপরাধে জড়ায় তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের বিষয়েও আইন রয়েছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁদের সন্তানদের খোঁজখবর রাখার জন্য। সন্ধ্যার পর কিশোররা যেন বাইরে না থেকে পড়ার টেবিলে থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের কনভেনশন হলে গতকাল শনিবার ‘মাদক-সন্ত্রাস, শিশু নির্যাতন, ইভ টিজিং এবং সেলফোন-ইন্টারনেটের অপব্যবহার প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি এ আলোচনাসভার আয়োজন করে। সাবেক আইজিপি আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ অনুষ্ঠানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল, মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি মানুষের উপকারে আসছে। তবে ইদানীংকালে মানুষ মোবাইল ফোন, ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যে অপকর্ম করা হচ্ছে, একে ‘সোশ্যাল কোকেন সন্ত্রাস’ বলা যায়। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের আবির্ভাব হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ। অভিভাবকদের অনুরোধ করব, আপনাদের ছেলে-মেয়েরা কে কী করছে, সেটা লক্ষ্য করুন। কিশোর গ্যাংয়ে যাতে কেউ সম্পৃক্ত হতে না পারে সজাগ থাকুন।’

কিশোররা অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিশোর হলেও। দেশে কিশোর অপরাধীদের জন্যও আইন রয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, আমাদের কি ঐশীর কথা মনে আছে? সে তার বাবা-মাকে হত্যা করেছিল। তার বাবা কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রতিদিন সামনে আসে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খুব হতাশ হই, যখন দেখি সন্তানকে জিপিএ ৫ পাওয়ানোর জন্য বাবা রাত জেগে অপেক্ষায় থাকেন প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন্য। শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরে নিজের কোচিং সেন্টারে ডাকেন জিপিএ ৫ পাওয়ার জন্য। সন্তানরা মূল্যবোধ শিখবে কী করে? যখন দেখে বাবার যে পেশা তার সঙ্গে অর্থ উপার্জনের কোনো মিল নেই। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে হলে আগে নিজেদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা