kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা দি ইঞ্জিনিয়ার্স-রত্নগর্ভা মা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা দি ইঞ্জিনিয়ার্স-রত্নগর্ভা মা

রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে গতকাল ‘দি ইঞ্জিনিয়ার্স-রত্নগর্ভা মা’ পুরস্কার তুলে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জীবন চলার পথে কত রকম উত্থান-পতন, সুখ আর দুঃখের গল্প থাকে। তবে সবচেয়ে সুখের গল্প তৈরি হয় সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ আর স্বীকৃতিতে। সন্তানের স্বীকৃতিতে গর্বে বুক ভরে যায়; ভুলিয়ে দেয় জীবনের সব দুঃখ আর কষ্ট। গতকাল শনিবার রাজধানীর রমনায় ‘দি ইঞ্জিনিয়ার্স-রত্নগর্ভা মা’ অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন একজন রত্নগর্ভা মা লুত্ফা জালাল।

বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইইবি) ঢাকা কেন্দ্র ও দি ইঞ্জিনিয়ার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রকৌশলীদের মায়েদের ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে সম্মানিত করতে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। অনুষ্ঠানে ৬০ জন মাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আইইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ।

লুত্ফা জালাল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, মানুষের জীবনে বিশেষ অনেক স্মৃতি আছে। সব সুখ আর দুঃখে মিশেল। কেননা সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়। তবে তাদের মেধা, মনন আর স্বীকৃতিতে সব কষ্টই ম্লান হয়ে পড়ে। তাঁর পুরো পরিবারই ‘স্টার ফ্যামিলি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন মেধা-মান ধরা হয় জিপিএ-এ (প্লাস)। আগে ছিল বোর্ড স্ট্যান্ড বা স্টার মার্কস। আমাদের পুরো পরিবারই ছিল স্টার মার্কসের।’

লুত্ফা জালালের সব সন্তানই দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। স্বামী নাট্যকার জালাল উদ্দীন দেলোয়ার। থাকেন রাজধানীর খুব কাছের শহর নারায়ণগঞ্জে।

নিজেকে একজন লেখক, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও ছড়াকার উল্লেখ করে লুত্ফা জালাল বলেন, এরই মধ্যে তাঁর পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সন্তানদের একজন প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক। সবার বড় মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জেবুন্নেছা জালাল, আরেক সন্তান জান্নাতুল জালাল কৃষিবিদ, পদ্মা অয়েলে কাজ করেন। ছোট সন্তান জাবের বিন জালাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড অ্যাডমিনেস্ট্রেশনে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

অনুষ্ঠানে এমন আরেক মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রকৌশলী রেশমা আকতারের মা আলেয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘কোনো দুঃখই আমাকে ছেয়ে যেতে পারেনি আমার মেধাবী সন্তানদের জন্য।’ তাঁর ৯ সন্তান। তাঁদের সবাই দেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কাজ করছেন। আলেয়া বেগম বলেন, ‘গর্বিত মায়ের স্বীকৃতি পেলেও এর চেয়ে বড় পুরস্কার আমার সন্তানরাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, মা শুধু একজন জননীই নন, তিনি একটি শিশুর প্রধান শিক্ষক। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই সন্তানের সব কিছুর হাতেখড়ি। বিশ্বের সব কিছুর সঙ্গে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। একজন মা-ই ত্যাগ-তিতীক্ষার মাধ্যমে সন্তানকে উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিমেন্ট খাত) খন্দকার কিংশুক হোসেন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসাই নয়, একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিয়োজিত। এরই ধারাবাহিকতায় ‘রত্নগর্ভার’ এই আয়োজনেও অংশগ্রহণ করছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও যেকোনো ভালো উদ্যোগের পাশে থাকবে বসুন্ধরা।

বসুন্ধরা সিমেন্টের পক্ষে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, এজিএম (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) মো. শফিকুল ইসলাম, ম্যানেজার (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) ইমাম আল কুদরত-ই-এলাহী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ‘দি ইঞ্জিনিয়ার্স-রত্নগর্ভা মা, ২০১৯’ সংবর্ধনা পাওয়া মায়েরা হলেন—আয়েশা বেগম, নাজাতুন নেসা, মোছা. রওশন আরা বেগম, ফাতেমা খানম, ছামিরুন নেছা, সামছুন্নাহার বেগম, জেবুন নেসা, জয়নব বেগম, মনোয়ারা বেগম, বেগম রাবেয়া খাতুন, আফরোজা বেগম, হাসিনা মজিদ, মেহেরুন নেছা খান, রওশন আরা বেগম, রেনুজা বেগম, সেলিনা বেগম, রওশন আরা বেগম, রোকেয়া বেগম, মোছা. আয়েশা বেগম, লুত্ফা জালাল, ছায়ারানী মল্লিক, লতিফা ইয়াসমিন, সাহিদা আক্কাছ, কণা মজুমদার, কিরণ বালা দেবী, সালমা আমিন, সালেহা খাতুন, শিরীন রহমান, নফছুন নাহার হাবিবা, মনিরাতুল আলম, লুত্ফন নাহার, শাহানা ইসলাম, নুরুন্নাহার, রোকেয়া বেগম, সুলতানা সাঈয়েদা, নুরজাহান রব, সাইদা মঞ্জুর, বেগম মোস্তারী আহমেদ, বেগম সেলিনা মোহসিন, শীলা রানী সাহা, শাহীন আক্তার, ফৌজিয়া আলম, জাকিয়া মাহবুব, আমাতুল্লাহ বেগম, রাহিমা ফেরদৌস, নাসরীন আক্তার, জিয়াউন নাহার খানম, নাছিমা আক্তার, সিনারা মান্নান, মুক্তি রানী পোদ্দার, মাহমুদা আক্তার, রঞ্জুশ্রী কুণ্ডু, সেলিনা আক্তার, নাসিমা আক্তার, মেহেরুন নেছা, রওশন আরা বেগম, ফিরোজা বেগম, ঝুমু রাণী পোদ্দার, লায়লা ফেরদৌস আরা মজুমদার, রিক্তা রাণী কুণ্ডু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা