kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এক বিদ্যালয় এক শিক্ষক

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাগেরহাটের শরণখোলার সুন্দরবনের গাঘেঁষা ১১৩ নম্বর গাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক। তিনি জাকির হোসেন খান। প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জনবলের সংকট থাকায় তাঁকে দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। একতলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনটি পরিপাটি হলেও এখানে টয়লেট ও খাবার পানির সংকট রয়েছে। তবু পিছিয়ে পড়া এই জনপদ ও জেলে-বাওয়ালি পরিবারে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাকির হোসেন খান। প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ ভেঙে স্কুলে আসেন তিনি। এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্কুলমুখী করতে তিনি নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ে সপ্তাহে একটি মিড ডে মিল চালু করেছেন। মিড ডে মিলে খিচুড়ির সঙ্গে ডিম বা মুরগির মাংস দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তার বাড়িতে ছুটে যান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার ২০১৩ সালে দেশের দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে দেড় হাজার বিদ্যালয় স্থাপন করে। এর একটি হলো শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের ঢালির ঘোপ সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া জনপদ উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের গাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৫০ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের এ বিদ্যালয়ের প্রথম ধাপে একতলা সম্পন্ন করা হয়েছে। 

উপজেলার উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই জেলে-বাওয়ালি। তারা সুন্দরবনে কাঠ কেটে ও নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখানকার রাস্তাঘাটে এখনো হাঁটু সমান কাদা। বেশির ভাগ বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা