kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এক পায়ে রনির ‘শিক্ষাযুদ্ধ’

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক পায়ে রনির ‘শিক্ষাযুদ্ধ’

বাড়ি থেকে এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে পাবনার চাটমোহর পলিটেকনিক অ্যান্ড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র তরিকুল ইসলাম রনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

অন্যদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না তরিকুল ইসলাম রনি। কারণ তার ডান পা নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দারিদ্র্য দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী এ ছাত্রকে। শুধু বাঁ পা দিয়ে দীর্ঘ পথ সাইকেল চালিয়ে কলেজে যায় সে। সব বাধাকে অতিক্রম করে এভাবেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সে।

রনি পাবনার চাটমোহরের মুশাগাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. মুন্নাফ হোসেন ও চম্পা খাতুন দম্পতির বড় সন্তান। তার ছোট বোন রানী খাতুন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ২০১২ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় রনি। তখন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসকরা হাঁটুর ওপর থেকে তার ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও হতাশা পেয়ে বসে তাকে। কিন্তু হাল ছাড়েনি রনি। এ বছর চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ মাইনাস পেয়ে এসএসসি পাস করেছে রনি। পরে চাটমোহর পলিটেকনিক অ্যান্ড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিটিউটে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। এক পা দিয়েই প্রতিদিন ২০-২৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে বাড়ি থেকে কলেজে যায় সে। তবে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে না পারার আক্ষেপ আছে তার।

আক্ষেপের সুরে রনি বলে, ‘এক পায়ে সাইকেল চালিয়ে কলেজে যাওয়া-আসা করতে খুব কষ্ট হয়। একটা আর্টিফিশিয়াল পা হলে আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারব। যার দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকা, কিন্তু কেনার সামর্থ্য নেই। সেই সঙ্গে একটি ব্যাটারিচালিত সাইকেল হলে কলেজে যাতায়াত আমার জন্য সহজ হতো।’

ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে ইচ্ছুক রনি বলে, ‘পড়ালেখা শেষ করে চাকরির ব্যবস্থা হলে আমার এক পা না থাকার কষ্টটা ভুলতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা