kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা

সাক্ষীর অভাবে মামলা নিষ্পত্তি হয় না ৯ বছর

আশরাফ-উল-আলম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাক্ষীর অভাবে মামলা নিষ্পত্তি হয় না ৯ বছর

অবৈধ ভিওআইপি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এক শ্রেণির অসাধু লোক সরকারের আর্থিক ক্ষতি করে যাচ্ছে। ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রায়ই চলে অভিযান, আটক হয় সরঞ্জাম। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, এমন অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম আটকের পর সেই মামলা চলছে ৯ বছর ধরে।

ঢাকার বিশেষ জজ-১-এর আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় ৯ বছরে মাত্র একজন সাক্ষী হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী এসআই মো. শাহীন রেজা।

২০০৮ সালের ২ আগস্ট অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম আটকের ঘটনা ঘটে। অভিযোগপত্র দেওয়া হয় একই বছরের ১০ অক্টোবর। এরপর মামলা বিচারের জন্য স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু সেই মামলা আর নিষ্পত্তি হয়নি। চলছে বছরের পর বছর।

নথি থেকে দেখা যায়, এই মামলার অভিযোগপত্রে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষীদের হাজির হওয়ার জন্য আদালত প্রথমে সাক্ষীদের ঠিকানায় সমন জারি করেন। হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একপর্যায়ে প্রত্যেক সাক্ষীর প্রতি অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার পরও সাক্ষী হাজির হচ্ছেন না। আবার সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ সাক্ষীদের গ্রেপ্তার করে হাজিরও করছে না।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২ আগস্ট এএসপি ওমর ফারুকের নেতৃত্বে র‌্যাব-১-এর একটি দল কাফরুল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পূর্ব কাজীপাড়ার ৩০১ নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসার যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে। ওই ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে ভিওআইপি যন্ত্রপাতি দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করা হচ্ছিল। র‌্যাব তাত্ক্ষণিকভাবে সেখান থেকে গোলাম মোস্তাকিম ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে বাবু ও মো. আলমগীর হোসেন ওরফে সাব্বির হোসেন ওরফে আলমকে আটক করে। আবু সাঈদ ওরফে রানা নামের একজন এ সময় পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় এসআই মো. শাহীন রেজা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইনের ৩৫(২)/৭৪ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন র‌্যাব-১-এর এসআই আবদুল মাজেদ। ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি তদন্ত শেষ করে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, জব্দ করা মালামাল ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিটিআরসি তথা বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক মোবাইল কল আদান-প্রদান করে ব্যবসা করেন আসামিরা। এই ধরনের অন্তর্ঘাতী কাজের দ্বারা বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করার অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী শামসুজ্জামান দিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। সাক্ষীরা না আসায় মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। গত ৯ বছরে একজন সাক্ষী এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীর জন্য অপেক্ষা করলে আরো ৯ বছরেও মামলার কিছু হবে না। ভোগান্তি পোহাতে হবে আসামিদের।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা