kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইইডিসিআরের তথ্য বিশ্লেষণ

রাজধানীবাসীর ঈদ যাত্রায় ডেঙ্গু ছড়ায় সারা দেশে

আরো এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

তৌফিক মারুফ   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুলাই পর্যন্ত ঢাকার মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সীমাবদ্ধ ছিল। আক্রান্তের হার আগের তুলনায় বাড়তে থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া জোরদার হচ্ছিল তখন। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মানুষ ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে ছুটতে শুরু করে, তখন থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এর মধ্যে বড় অংশ প্রথমত ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে গেলেও তাদের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অন্যদের মধ্যে এটা ছড়ায়। এমনকি স্থানীয় এডিস মশাও মানুষ থেকেই ডেঙ্গুর ভাইরাস নেয়। একপর্যায়ে ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর তাদের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ১৫ সপ্তাহের একটি পর্যবেক্ষণ চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্যই দিয়েছে।

ওই চিত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত মোট পাঁচ সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এর মধ্যে আবার আগস্টের চার সপ্তাহে ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে দ্বিতীয় বা ঈদের সপ্তাহে দেশে গত ১৯ বছরের ইতিহাসে কোনো এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৪৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রাদুর্ভাবের সময় মানুষের মুভমেন্ট যত বেশি থাকে রোগ বা ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগও বেড়ে যায়। তাই আমরা ঈদের আগে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলে আসছিলাম। কিন্তু ঈদের সময় মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এতে করে অনেকেই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে গ্রামে গিয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। আবার তাদের স্থানীয় এডিস মশা কামড়ানোর মাধ্যমে অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়েছে ভাইরাস, যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।’

অন্যদিকে আইইডিসিআরের পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় কয়েক দিনের মধ্যে একসঙ্গে বেশি মানুষ ঢাকার বাইরে যায়। এর পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যদিও এরপর এখনো অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে যশোর, বরিশালসহ কোনো কোনো এলাকায় প্রকোপের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে। আমরা ওই সব এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি। এর প্রতিবেদন পেলে আরো বিশদভাবে পরিস্থিতি বুঝতে সহজ হবে। আর সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, “এখন বৃষ্টি না হলে আর তেমন ঝুঁকি দেখছি না। তবে আমরা এখনই ‘ঝুঁকিমুক্ত’ বলতে চাই না। এখনো বলছি, সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। যেসব স্থানে এডিসের প্রজনন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে সেসব স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”

নতুন ভর্তি কমে ৬০৭ : এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬০৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ২৩৩ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৭৪ জন।

একই সময়ের মধ্যে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ৩৩ জন। বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় খুলনা বিভাগে, ১১৫ জন। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ৪৯ জন, যশোরে।

আরো এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু : শুক্রবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্কুলছাত্রী রুবাইয়া আক্তারের মৃত্যু ঘটেছে। গত এক সপ্তাহে আরো তিন স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায়। শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, রুবাইয়া আক্তার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কয়ড়া এলাকার আব্দুর রশীদের মেয়ে। সে স্থানীয় রুপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা