kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আন্দোলনকারীকে মারধর বৈঠক স্থগিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের শহীদ রফিক-জব্বার হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা। এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম অভিষেক মণ্ডল। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া এ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। আর মারধরের শিকার নুরুল ইসলাম সাইমুম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী। আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের এ আবাসিক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও চলমান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এর আগে গত ২৭ আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এক কর্মীকে মারধর করে ছাত্রলীগের এক কর্মী। এ দুই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে তারা আলোচনায় বসবে না।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে আসছে। এসব দাবির মধ্যে আছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নে এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত, উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার পুনর্বিন্যাস এবং আবাসিক হল নির্মাণের স্থান পুনর্নিধারণ করা। এ আন্দোলনের একপর্যায়ে টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হলে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম অবরোধস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এতে আন্দোলনকারীরা সায় দিলে গতকাল সকাল ১০টায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে এক আন্দোলনকারীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠায় বৈঠক স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে নুরুল ইসলাম সাইমুম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের সামনে নাশতা খেতে যান। এ সময় ফোনে কথা বলা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাইমুমকে লাকড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন অভিষেক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বাদী হয়ে অভিষেকের নামে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী সাইমুম বলেন, ‘নাশতা করার সময় একটি জরুরি ফোন রিসিভ করে আমি কথা বলছিলাম। এ সময় পাশে বসে থাকা অভিষেক ভাই আমার ওপর চড়াও হন। পরে কলার ধরে দোকানের বাইরে এনে লাকড়ি দিয়ে মারধর করেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা