kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জামদানিতে ঐতিহ্যের বিনির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামদানিতে ঐতিহ্যের বিনির্মাণ

ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে গতকাল জামদানি উৎসবে পছন্দের শাড়ির খোঁজ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রেতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জামদানি বয়নশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অন্যতম স্তম্ভ। হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত এ শিল্প। চোখ ধাঁধানো নকশা, বাহারি রং, সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত বুনন জামদানি বস্ত্রকে এনে দিয়েছে বিস্ময়কর সুন্দরের খ্যাতি। প্রতিটি বস্ত্র বয়নশিল্পীদের দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নৈপুণ্যের সাক্ষ্য বহন করে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প একজন তাঁতিকে দিয়েছে শিল্পীর মর্যাদা।

বর্তমান কারিগররা বাজারের লঘু চাহিদার শিকার হয়ে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তৈরি করছে নিম্নমানের শাড়ি। যার ফলে জামদানি তার আদি রূপ থেকে সরে এসে হারাতে বসেছে ঐতিহ্য আর সুনাম। বয়নশিল্পীদের নিপুণ দক্ষতায় এ সুনাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করেছে জামদানি উৎসব-২০১৯। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এ উৎসব।

আয়োজকরা বলেন, ‘জামদানি শিল্পকে পুনরুদ্ধার করাই আমাদের এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। যদিও পুরনো মোটিফে জামদানি বোনা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু কারুশিল্পীরা সেই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিল। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কাজ না দেখেও একইভাবে বানাতে পেরেছে প্রতিটি জামদানি।’

প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে পুরনো সংরক্ষিত শাড়ির সংগ্রহ, গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্তসহ সোনারগাঁর কৃতী জামদানি বয়নশিল্পীদের তৈরি ১০০ বছরের পুরনো নকশার অনুকরণে অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে নতুন করে বয়নকৃত শাড়ি ও বস্ত্রসম্ভার। ৮০টি শাড়ি আনা হয়েছে প্রদর্শনীর জন্য। শাড়িগুলো তৈরি করতে সময় লেগেছে ৬৪০ সপ্তাহ ও শ্রম দিয়েছে ১০১ জন তাঁতশিল্পী।

উৎসবে আসা সামিরা রহমান বলেন, ‘জামদানির কাজগুলো দেখে অবাক হয়েছি। এত নিখুঁত কাজ এর আগে দেখিনি আমি। এমন উৎসবে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আয়োজক ও কারুশিল্পীদের ধন্যবাদ আমাদের ঐতিহ্যকে এভাবে তুলে ধরার জন্য।’

গতকাল বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী এবং ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট গাদা হিজাউয়ি-কাদুমি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে পাঁচ কারুশিল্পীকে ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। জামদানি উৎসবের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁকে ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্রাফট সিটি’র মর্যাদায় অভিষিক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে এ প্রদর্শনীতে আসার জন্য অনুরোধ করব। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি যে কতটা সুন্দর ও সমৃদ্ধ তা তারা দেখুক, ধারণ করুক। এ শিল্পকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। বেশি বেশি জামদানি বস্ত্র ক্রয় করে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। বর্তমানে তার ঐতিহ্য হারিয়ে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। এ ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে আরো এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে আড়ং, অনন্যা, কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফটসসহ দেশের স্বনামধন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জামদানি অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে প্রদর্শনীটি। ঐতিহ্যের এ উৎসবে পর্দা নামবে ১২ অক্টোবর।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা