kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট নিয়ে দুই সংগঠন মুখোমুখি

উদ্বিগ্ন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগামীকাল রবিবার থেকে চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে পরিবহন সংগঠনের একটি অংশ। সংগঠনটির আরেক অংশ এই ধর্মঘটকে সড়কশৃঙ্খলাবিরোধী উল্লেখ করে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। পরিবহন সংগঠনের দুটি অংশ পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামে আগামীকাল থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাইম মুভার-লরি চালকদের হঠাৎ ধর্মঘটের কারণে বন্দরের ভেতর পণ্য ওঠানো-নামানো ও সরবরাহে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এর সমাধান হতে না হতেই আবারও পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কোরবানি ঈদের ছুটি এবং যানজটের কারণে বন্দরে জাহাজজট এখনো স্বাভাবিক হয়নি। গত সপ্তাহেও ধর্মঘটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেটি অতি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে ডাকা ধর্মঘটের কারণে আবারও উদ্বেগ বাড়বে; চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজট আরো বাড়বে।’

উল্লেখ্য, ট্রেইলরচালক সাজু হত্যার বিচারের দাবিতে গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে হঠাৎ ধর্মঘট ডেকে বসে ট্রেইলরচালক ও শ্রমিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম প্রাইম মুভারস ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন পরিবহন সংগঠনের নেতারা। ফলে সকাল ৬টা থেকে বন্দরের ভেতরে কনটেইনার জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো এবং সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ধর্মঘটি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সেদিন দুপুর ২টা থেকে পণ্য পরিবহন সচল করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এর রেশ না কাটতেই ৪ সেপ্টেম্বর ফের ধর্মঘটের হুমকি আসে। 

এদিকে ৯ দফা দাবি আদায়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ’। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামীকাল থেকে চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য ও গণপরিবহন ধর্মঘটের আলটিমেটাম দিয়েছেন সংগঠনটির একাংশের নেতারা। 

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল বাবুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পরিবহনের কোনো সমস্যা থাকলে সাধারণত মোটরযান অধ্যাদেশে মামলা-জরিমানা করা হয়। কিন্তু তা না করে এখন ভোক্তা অধিকার আইনে বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্নভাবে মামলা-হয়রানি করছেন। এতে অনেক পরিবহনের মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ 

সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বিআরটিএতে কাগজপত্র হালনাগাদ করতে গেলে হয়রানি, সড়কে বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের হয়রানিতে পরিবহন মালিকরা অতিষ্ঠ। এখন কোনো উপায় না পেয়ে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। গণ ও পণ্য পরিবহনে প্রশাসনিক এসব হয়রানি বন্ধ করার জন্য আমরা ৯ দফা দাবি ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছি।

এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ’-এর আরেকটি অংশ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই ধর্মঘটকে প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের চলমান পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

সংগঠনের সদস্যসচিব বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ নাম ব্যবহার করে সংগঠনটির একটি অংশের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও চাঁদাবাজিসহ গাড়ির পারমিট প্রদানের নামে মালিকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সেই সংগঠনের নেতাদের অনেকেরই গাড়ির হালনাগাদ লাইসেন্স নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে বছরের পর বছর তাঁরা সড়কে গাড়ি চালাবেন, শৃঙ্খলা আনতে ও রাজস্ব আদায় করতে বিআরটিএ জরিমানা করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকবেন। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি?’ এ ছাড়া ঐক্য পরিষদের দাবির বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় না বসতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয় এই পক্ষ থেকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা