kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাশ্রয়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি হচ্ছে সন্দ্বীপে

রহিম মোহাম্মদ, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাশ্রয়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি হচ্ছে সন্দ্বীপে

সচেতনতার অভাব তো আছেই, এর সঙ্গে আছে আর্থিক অক্ষমতা; যার ফলে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের হার একেবারেই কম উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে। মাসিককালে এ অঞ্চলের নিম্নবিত্ত নারী-কিশোরীরা সাধারণত অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার করে থাকে। এতে করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে তারা, আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে এগিয়ে এসেছেন সন্দ্বীপেরই কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা। তৈরি করছেন স্বল্প মূল্যের স্যানিটারি ন্যাপকিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোক্তারা ন্যাপকিন তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের মানব মুক্তি সংস্থা থেকে। অক্সফামের আর্থিক সহায়তায় রিকল-২০২১ প্রজেক্টের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কারখানা তৈরির জন্য পুঁজি সহায়তাও মিলেছে এ প্রকল্প থেকে। বর্তমানে সন্দ্বীপে দুটি কারখানা চালু হয়েছে। একটি মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে, নাম কর্ণফুলী হাইজিন সেন্টার। অন্যটি রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লালখাঁ পাড়ায়, নাম চামেলী হাইজিন সেন্টার। এ দুই কারখানায় পাঁচজন করে নারী কাজ করছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিশোধিত তুলা, নেট ও ব্যান্ডেজের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় স্বল্প মূল্যের এ ন্যাপকিন। বর্তমানে এলাকার অনেক নারী-কিশোরীর মাঝে ন্যাপকিন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারীদের আয়ের পথও তৈরি হয়েছে।

মুছাপুর এলাকার শিল্পী বেগম বলেন, ‘মেয়েরা আগে অপরিচ্ছন্ন কাপড় ব্যবহার করত, এখন হাতের নাগালে ও ক্রয়সীমার ভেতরে হওয়ায় প্রায় সবাই স্বাস্থ্যসম্মত ন্যাপকিন ব্যবহার করছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।’

কর্ণফুলী হাইজিন সেন্টারের উদ্যোক্তা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় আমরা বাজারমূল্যের অর্ধেক দামে অর্থাৎ সাতটি প্যাডের প্যাকেট বিক্রয় করছি মাত্র ৫০ টাকায়। অথচ একই মানের পণ্য ফার্মেসিগুলোতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

রিকল প্রজেক্টের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর বাদল রায় স্বাধীন বলেন, এ কারখানা দরিদ্র নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি নারী-কিশোরদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করে তুলছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দ্বীপের বাইরেও পণ্য পৌঁছে দিয়ে লাভবান হতে পারে উদ্যোক্তারা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা