kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভবনে চাকচিক্য এলেও চিকিৎসায় লাগেনি রং

টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শয্যার অভাবে হাসপাতালের ফ্লোরে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নেয় রোগী—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের সচিত্র প্রতিবেদন দেখতে দেখতে পাঠকের চোখ সয়ে গেছে। তবে এবার গাজীপুরের টঙ্গী থেকে এসেছে একবারে উল্টো ছবি। টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যার বেশির ভাগই নিয়মিত খালি পড়ে থাকে। হাসপাতালটির ভবনে চাকচিক্য এলেও চিকিৎসাসেবায় এখনো লাগেনি রং।

একসময় হাসপাতালটির নাম ছিল ‘মাছিমপুর থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’, এরপর ‘৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল’। বর্তমানে এটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন নামকরণ হয়েছে ‘টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল’।

সুরম্য ভবনের এই হাসপাতালের বাহ্যিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি, রয়ে গেছে আগের সেই ‘প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রের’ মতোই। প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা এখানে মেলে না। তাই সেবা নিতে রোগীদেরও আগ্রহ নেই।

শয্যা বাড়ানো হলেও রোগী না থাকায় হাসপাতালের বেশির ভাগ শয্যা সারা বছরই খালি থাকে। ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য কর্মচারী মিলিয়ে সৃষ্ট ১৮৫টি পদ থাকলেও শতাধিক পদ এখনো খালি। ১৭ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন বলে কাগজে-কলমে জানা গেলেও গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক ও ইমার্জেন্সি চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারো কক্ষ খোলা পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের পুরনো জীর্ণ ভবনের বদলে এখন নির্মিত হয়েছে আটতলা আধুনিক ভবন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সৃষ্ট পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই পরিকল্পিত আধুনিক হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, দক্ষ ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে পাঁচ বছর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

ষাটের দশকের প্রথম দিকে টঙ্গীতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাকালে শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে যে চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছিল, সময়ের প্রয়োজনে তাকে এখনো ঢেলে সাজানো হয়নি। মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, হৃদরোগ, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো এখানে না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্লাড ব্যাংক, সিটিস্ক্যান, এমআরআই, অ্যানালাইজারসহ জরুরি কোনো চিকিৎসা শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতিও নেই এ হাসপাতালে।

সময়ের পরিক্রমায় টঙ্গী শিল্পাঞ্চল রূপ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। বর্তমানে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন হাজার শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এলাকার লোকসংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখ। এ ছাড়া ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়ক ও টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক টঙ্গীতে হওয়ার কারণে এখানে শ্রমিক সংঘর্ষ, যান্ত্রিক ও সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের।

টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন বহু রোগী এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, কিন্তু এখানে তাদের চিকিৎসা শেষ করার কোনো সুযোগ না থাকায় রোগীদের তাত্ক্ষণিক অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিন বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, নতুন বহুতল ভবন তৈরি করা হয়েছে। এসব কারণে আউটডোর রোগী বেড়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখানে অন্তত ২২ জন কনসালট্যান্ট থাকা দরকার। হাসপাতাল ভবন নতুন করে তৈরি হলেও আবাসিক ভবনগুলো অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা