kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শাহজাদপুরে নিঃস্ব অনেক পরিবার

২৪ ঘণ্টায় যমুনার ভয়াবহ ভাঙন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শাহজাদপুরে নিঃস্ব অনেক পরিবার

যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বিশাল অংশজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া জেলার এনায়েতপুর থানার ঘাটাবাড়ী, বাঐখোলা, পাকুড়তলা, আরকান্দি, ব্রাহ্মণগ্রাম, ভেকা ও হাটপাচিল গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে হঠাৎই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। অসহায় এসব মানুষ যমুনার ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ভাঙনকবলিত ঘাটাবাড়ী গ্রামের এরশাদ আলী, সুজাব আলী, আবু হানিফ, তয়জাল শেখ, কহিনুর বেগম, রুহুল সরকার ও শহিদ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানি কমতে থাকায় যমুনার পারে দুই দিন হলো তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তাণ্ডবে সাতটি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। এ ছাড়া ভাঙনে এরই মধ্যে বাঐখোলা গ্রামটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। এলাকাবাসী সব হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর তুলে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে। কেউ আবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ভাঙনকবলিত অসহায় পরিবারগুলো জানায়, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাকি ছয়টি গ্রামও অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। এর পরও তাঁরা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ফলে গত দুই দিনে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও অসংখ্য বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি অচিরেই তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

গতকাল এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা