kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিলকুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্কুলের মাঠ যেন পরিত্যক্ত জলাশয়

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলের মাঠ যেন পরিত্যক্ত জলাশয়

মাঠের চারপাশে শেওলাযুক্ত পানি। দেখলে মনে হয় যেন পরিত্যক্ত জলাশয়। তবে এটি কোনো পরিত্যক্ত জলাশয় নয়, স্কুলের মাঠ। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার উপায় নেই। বছরে সাত-আট মাস পানিবন্দি থাকে মাঠটি। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চিত্রটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পিলকুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি এ ক্যাটাগরির হয়েও বর্তমানে প্রায় বছরজুড়ে স্কুলের মাঠটি জলাবদ্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠটি শেওলা আর পানিতে থইথই করছে। পাশের সড়কটিও পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কের পাশের ড্রেন আবর্জনায় ভরা। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে আশপাশ পানির নিচে। কিছু স্থানে জমেছে কচুরিপানা। হাঁটার জন্য অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে কোথাও কোথাও বিছানো হয়েছে ইট আর মাটি। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে পানি ডিঙ্গিয়ে হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে। ভেজা শরীর নিয়ে ক্লাস করে তারা।

শিক্ষার্থীরা কালের কণ্ঠকে জানায়, দিনের পর দিন এভাবে ভিজে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। অভিভাবকদের ভয়, তাদের সন্তানদের আবার ডেঙ্গু না হয়। অন্যান্য পানিবাহিত রোগেও আক্রান্তের ভয় রয়েছে শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী এই পরিবেশে স্কুলে আসতে চায় না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তার পরও সমাধান হচ্ছে না।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোর্শেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলে, ‘মাঠে পানি থাকার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। এই পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় বলে অনেকের পায়েই ঘা হয়েছে।’

সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠটি বছরের বেশির ভাগ সময় পানিবন্দি থাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় মাঠসহ শ্রেণিকক্ষ। ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। বর্ষা শেষেও মাঠের পানি শুকায় না। এভাবেই নানা সমস্যা নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।’

প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমনিতেই পানি জমে থাকে, তার ওপর সামান্য বৃষ্টি হলে আরো তলিয়ে যায়। বালু দিয়ে মাঠটি ভরাট করলে, বিদ্যালয়ের বাইরের ড্রেন পরিষ্কার করলে পানি আর জমবে না। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদনও করেছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের এই খারাপ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ

করা হবে। এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা