kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভুয়া নথিপত্রে বিলাসী গাড়ি নিবন্ধন

বিআরটিএর দুর্নীতিবাজরা তটস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের কণ্ঠে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভুয়া নথিপত্রে বিলাসী গাড়ি নিবন্ধন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকার তিনটি কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম, ঝালকাঠিসহ অন্যান্য কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালক ও তাঁদের সহযোগী দালালরা এখন তটস্থ। বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ও নিবন্ধনের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে বারবার যাছাই করে সম্পন্ন করার বিষয়ে তাঁরা উদ্যোগ নিচ্ছেন। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত তথ্যানুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হবে। গাজীপুর ও পিরোজপুর থেকেও গাড়ি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে তাদের কাছে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান অবশ্য কালের কণ্ঠে ৮৯১টি গাড়ির তথ্য উঠে আসার বিষয়ে বলেছেন, ‘এই তালিকা আমরা পেলে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ তালিকাটি যে বিআরটিএ থেকে এনবিআরে পাঠানো হয়েছে তা তাঁর মনে ছিল না।

এদিকে ভুয়া নথিতে গাড়ি নিবন্ধনের সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বিআরটিএ ঝালকাঠি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারী অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর দালাল ও কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করেছেন, কিছুদিন তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তাঁরা আবার তৎপরতা শুরু করবেন।

এদিকে ঢাকার উত্তরা বিআরটিএ কার্যালয় থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিলাসী গাড়ি ভুয়া নথি ব্যবহার করে নিবন্ধন দেওয়ার সময় ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ বর্তমানে বিআরটিএ ইকুরিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) পদে কর্মরত আছেন। তিনি কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে উত্তরা কার্যালয়ে নিবন্ধিত একাধিক গাড়ির নম্বর দেখে প্রতিবেদককে ফোনে বলেন, ‘যাচাই করার আধুনিক ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের কাজ আরো সতর্কতার সঙ্গে করা সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও করদাতার পরিচিতি নম্বর ব্যবহার না করে এবং ভুয়া কাগজপত্রে নিবন্ধন নিয়ে বিএমডাব্লিউ, আউডি, জাগুয়ারসহ বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। গাড়ি আমদানিকারক থেকে শুরু করে বিআরটিএর কর্মকর্তা-দালালদের তৈরি করা চক্রের মাধ্যমে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলে। ২৫৭টি গাড়ির নিবন্ধনই দেওয়া হয়েছে করদাতার পরিচিতি নম্বর ছাড়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা