kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবিতে অবরোধের তৃতীয় দিন

উপাচার্যের আলোচনার প্রস্তাবেও তেজ কমেনি আন্দোলনের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তিন দফা দাবিতে বিএনপি, বাম ও আওয়ামী লীগপন্থী (একাংশ) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের টানা অবরোধে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ ছিল সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য নিজে উপস্থিত হয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও কোনো ধরনের সমঝোতায় যায়নি আন্দোলনকারীরা। তবে আজ শুক্রবার আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। দাবি না মানলে আগামী রবিবার থেকে আরো কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে পারে বলে তারা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান অস্বচ্ছ, অপরিকল্পিত এবং প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা

দাবিতে ক্যাম্পাসে এ আন্দোলন চলছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দফা দাবি না মানায় টানা তৃতীয় দিনের মতো গতকালও সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে নতুন ও পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে ভবন দুটির কোনো ফটকেরই তালা খুলতে পারেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে আগের দুই দিনের মতো গতকালও কর্মস্থলে ঢুকতে না পেরে বাইরে অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন তাঁরা।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সমস্যার সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যর্থ হন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে দুই উপ-উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনস্থলে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করে অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি একটি দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেন। আর বাকি দাবিগুলোর জন্য তিনি আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে গতকালের আলোচনায় কোনো সমাধান করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান উপাচার্য। পরে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে আন্দোলনকারীরা।

এ ব্যাপারে ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘ম্যাডাম আজ (গতকাল) বলেছেন যদি যৌক্তিক এবং সম্ভব হয় তাহলে দুটি দাবি মেনে নেবেন।’

এদিকে গতকালও অফিস করতে আসেননি উপাচার্য। টানা অবরোধের কারণে আটকা পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ। ফলে শিক্ষার্থীসহ সবাই প্রশাসন ভবনে সেবা নিতে গিয়ে ফিরে যায়।

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘যত দিন আমাদের দাবি মেনে না নেবে তত দিন আমরা আন্দোলন থেকে যাব না। সামনে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি আছে, আমরা কাল অথবা পরশু সবার সঙ্গে বসে কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেব।’

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তবে হলের স্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ। নির্ধারিত স্থান থেকে একটু এপাশ-ওপাশ করা যেতে পারে।’

দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ‘প্রকল্পে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে আমি তৃতীয় কোনো পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, সম্পূর্ণ বিষয়ের তদন্ত হোক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা