kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডেঙ্গু ঠেকাতে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে উদ্বেগ

তৌফিক মারুফ   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন বা নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে কীটনাশক প্রয়োগকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবহারও সবচেয়ে বেশি হচ্ছে নানা ধরনের কীটনাশক। এমনকি সিটি করপোরেশনের মশার কীটনাশকে ভালো কার্যকারিতা না থাকায় প্রয়োজনে ডোজ বাড়িয়ে ব্যবহারের পরামর্শও জোরালো হয়ে ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। চাপে পড়ে দুই সিটি করপোরেশনই ঢাকায় বেপরোয়াভাবে কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করে। অন্যদিকে ঘরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা কর্মস্থলেও মানুষ ইচ্ছামতো স্প্রে ব্যবহার করছে। বেড়েছে বিদেশি নানা উপকরণ ব্যবহারও।

কীটনাশকের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে জনস্বাস্থ্যবিদদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, ডেঙ্গু ঠেকাতে মানুষ অনেকটা নিরুপায় হয়েই কোনো নিয়ম না মেনে যথেচ্ছভাবে কীটনাশক ব্যবহার করছে। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এরই মধ্যে টের পাচ্ছেন বক্ষব্যাধির বিভিন্ন শাখার চিকিৎসকরা। অনেক কীটনাশকের আবার দীর্ঘমেয়াদি অন্যান্য রোগের ঝুঁকি রয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে এসব কীটনাশকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগতত্ত্ববিদরাও এমন আশঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মশার কয়েলের মূল উপাদান হচ্ছে পাইরেথ্রেরাম। সঙ্গে এলাথ্রিন ও এসবাইরোথ্রিনও থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সুগন্ধি হিসেবে পলিসাইক্লিক এরোমেটিকও ব্যবহার করা হয়। এর সবটাই মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া অ্যারোসল ইনসেক্ট কিলারে এনডাইইথাইল মেটা টলুয়ামাইড ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি স্প্রে কনটেইনারের গায়ে এসবের বিবরণও দেওয়া থাকে। থাকে সতর্কীকরণ ও ব্যবহারবিধি। এটি আরো বিপজ্জনক। সমস্যা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম ব্যবহারকারীরা অনুসরণ করে না। ফলে এসব কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে ঘরে ঘরেই মানুষের মধ্যে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশন লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড হিসেবে যে কীটনাশক ব্যবহার করছে, তা সামান্য মাত্রায় এদিক-ওদিক হলেই পরিবেশ ও মানুষের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। তাত্ক্ষণিক বোঝা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে থাকে।

শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘যেকোনো কীটনাশকই মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে মাত্রা মেনে ব্যবহারে বিপদের ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু এবার ডেঙ্গুর ভয়ে মানুষ যেভাবে নানা কীটনাশক ব্যবহার করছে, তা বিশেষত শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক সতর্কবার্তায়ও বলা হয়েছে, ঘরে স্প্রে করলে অবশ্যই ঘর বন্ধ করে ওপরের দিকে স্প্রে করতে হবে। সে সময় নাক-মুখ ঢেকে নিতে হবে। স্প্রের সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হবে।

কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথের শিক্ষক ড. রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই ডেঙ্গু রোধে এডিস মশাবিরোধী পদক্ষেপ চাই। তবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ-প্রতিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দিকেও সতর্ক নজর রাখতে হবে। নয়তো একটি সাময়িক বিপদ থেকে আমরা আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি বিপদের ভেতরে ঢুকে যাব।’

ড. রাজীব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যেসব কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, এবার তেমন কোনো কোনো কীটনাশকও সরকারের তরফ থেকে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ৭৮৮ জন নতুন ভর্তি : গত বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৭৮৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং এক হাজার পাঁচজন হাসপাতাল ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম।

জানানো হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৩১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪৫৭ জন। এ নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩৫৩। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়েছে ৭০ হাজার ৭৯০ জন। ভর্তি রয়েছে তিন হাজার ৩৭১ জন। হাসপাতালে থাকা মোট রোগীর মধ্যে ঢাকায় এক হাজার ৭২৯ জন এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৬৪২ জন রোগী রয়েছে।

আরো একজনের মৃত্যু : এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শ্রাবন্তী (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের খুলনা অফিস জানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা