kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

লেখা নকলের অভিযোগ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেখা নকল করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক। এমন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক ও গুরুতর অপরাধ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিকার চেয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদনও করেছেন তিনি।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আশরাফুল হক প্রশাসনের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলেছেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রূপালী আক্তার তাঁদের প্রকাশিত লেখা বা প্রবন্ধে অন্যের লেখা কপি করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর জার্নাল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাডিজে প্রকাশিত চারটি প্রবন্ধে অন্যের লেখা হুবহু নকল, সাইটেশন বা রেফারেন্স ব্যবহার না করে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালের ৩ সংখ্যায় প্রকাশিত লেখা দুটি বিশ্বখ্যাত টার্নিটিন সফটওয়্যারে পরীক্ষা করে যথাক্রমে ৫৭ শতাংশ ও ৬৯ শতাংশ অন্যের লেখার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি লেখায় ৮২ শতাংশ ও জার্নালের ১২তম সংখ্যায় ৬১ শতাংশ নকল করে লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রবন্ধের লেখক সাইটেশনের কোনো নিয়ম অনুসরণ না করে হুবহু নকল করেছেন। কখনো রেফারেন্স দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ইনভার্টেড কমা বা প্যারাফ্রেস করেননি, যা সাইটেশনের নিয়ম পরিপন্থী। কোনো কোনো লাইন হুবহু নকল করেছেন, সেখানে রেফারেন্স, কোটেশন বা প্যারাফ্রেস করেননি।

অন্যের লেখা নিজের নামে প্রকাশ করার একাধিক তথ্য কালের কাণ্ঠ’র হাতে এসেছে। ওই শিক্ষকের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাডিজ, ভলিউম-৪-এ ছায়েদুর রহমান ও রূপালী আক্তারের নামে প্রকাশিত ‘এনভায়রনমেন্টাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ : আ পলিসি রিভিউ’ প্রবন্ধে ৬১ শতাংশ নকল করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া তথ্য হুবহু নকল করা হয়েছে, যাতে কোনো প্যারাফ্রেস বা রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়নি।

‘ডিমান্ড সাইড ফিন্যান্সিং : অ্যান অ্যাপরাইজাল অব আ নিউ অ্যাপ্রোচ ইন পাবলিক হেলথ পলিসি ইন বাংলাদেশ’ নামে লেখা আরেকটি প্রবন্ধে ৫৭ শতাংশ নকল করার অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগ করা হয়েছে, ওই প্রবন্ধের ৫৪ শতাংশ ইন্টারনেট উৎস, ১৭ শতাংশ নানা প্রকাশনা থেকে ও ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থীদের গবেষণা থেকে নেওয়া। মোট ২৫টি উৎস থেকে লেখা নেওয়া হলেও কোনো রেফারেন্স ব্যবহার করেননি।

‘ডেভেলপমেন্ট অব পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ : এ হিস্টোরিক্যাল পারসপেকটিভ’ শিরোনামে লেখা প্রবন্ধে ৬৯ শতাংশ কপি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের লেখা হুবহু নকল করেছেন, কোনো রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়নি।

এ ছাড়া ‘দ্য ফিলোসফি অব সায়েন্টিফিক সোশ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড দ্য ম্যাথডোলিজিক্যাল ডিবেট : এ হিস্টোরিক্যাল ওয়ারভিউ’ প্রবন্ধে ৮২ শতাংশ কপি করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লেখকদ্বয় লাইনের পর লাইন লিখলেও কোনো রেফারেন্স ব্যবহার করেননি, ইনভার্টেড কমা বা প্যারাফ্রেসও দেননি তাঁরা।’

লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক জেবউননেছা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তথ্যাদি মিলিয়ে দেখেছি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’

অভিযুক্ত ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেখা নকলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটা সঠিক নয়। বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন। আমি কারো লেখা কপি বা হুবহু নিজের নামে প্রকাশ করিনি। বিভাগের নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলা এবং প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা