kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘প্রাইভেট পড়নি, পরীক্ষা দেওয়ারও দরকার নেই’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রাইভেট (কোচিং) না পড়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্র বা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হলো স্মৃতি আক্তার নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে। পরে তাকে আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার দুর্গম এলাকা পাড়েরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ওই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্কুলের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার প্রথম দিন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পরীক্ষা চলছিল। কিন্তু স্কুলের সহকারী শিক্ষিক হামিদা বেগম সব শিক্ষার্থীকে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র দিলেও স্মৃতি আক্তারকে শুধু উত্তরপত্র প্রদান করেন। প্রশ্নপত্র না দিয়ে তাকে অন্য শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র দেখে উত্তরপত্র লেখার কথা বলা হয়। এ সময় স্মৃতি অন্যের প্রশ্নপত্র দেখে উত্তরপত্র লেখা সম্ভব নয় বলে জানালে শিক্ষক হামিদা বেগম রেগে গিয়ে স্মৃতির কাছ থেকে উত্তরপত্র কেড়ে নিয়ে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

হামিদা এ সময় স্মৃতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি প্রাইভেট পড়নি, তাই তোমার পরীক্ষা দেওয়ারও দরকার নেই। বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা দাও।’ এ অবস্থায় শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায়।

উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের দিনমজুর সাইজ উদ্দিনের মেয়ে স্মৃতি আক্তার।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হামিদা বেগম চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট কোচিং করান। তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়া বাধ্যতামূলক বলে জানা গেছে। জানা গেছে, আড়াই শ শিক্ষার্থীর ওই স্কুলে পাঁচজন শিক্ষকের সবাই নারী। অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী শিক্ষক হামিদা বেগম বলেন, ‘প্রশ্নপত্র কম থাকার কারণে তাকে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়নি। তবে অন্য শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র দেখে তাকে উত্তরপত্র লিখতে বলা হয়েছিল কিন্তু সে তা না করে বাড়ি চলে যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য আমি প্রাইভেট পড়াই। কিন্তু ওই ছাত্রী আমার কাছে প্রাইভেট পড়ে না। তাকে বের করে দেওয়া হয়নি। সে নিজেই পরীক্ষার কক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরজাহান কল্পনা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা