kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দশ লাখ টাকা ছিনতাইচেষ্টা কনস্টেবলকে গণপিটুনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীতে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বংশাল থানার এক পুলিশ কনস্টেবল। তাঁর নাম আল মামুন। এ ঘটনায় জিতু নামে তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে গেলেও পরে গ্রেপ্তার হয়েছে। গতকাল বুধবার আরামবাগ এলাকায় এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে মতিঝিল এলাকার এনআরবিসি ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী আবুল কালাম ১০ লাখ টাকা তুলে বের হন। এরপর ব্যাংকের সামনে থেকে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন কনস্টেবল মামুন ও জিতু। মামুন মোটরসাইকেল চালাতে থাকেন। আর কালামকে মাঝখানে রেখে পেছনে বসেন জিতু। মামুন মোটরসাইকেল নিয়ে আরামবাগে মোহামেডান ক্লাবের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে জিতু ব্যাগটি টানতে শুরু করেন। এ সময় আশপাশে লোকজন দেখে কালাম ‘ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে। এ সময় জিতু পেছন থেকে কালামের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। এরপর পথচারীরা মামুনকে পেটাতে শুরু করে। এ সময় সিভিল ড্রেসে থাকা মামুন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। এরই মধ্যে সেখানে উপস্থিত হয় মতিঝিল থানা পুলিশের একটি টহল টিম। তারা আহত কালাম ও মামুনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং কালামের কাছে থাকা টাকার ব্যাগ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে জানান, কনস্টেবল আল মামুন প্রাথমিকভাবে জানান যে তাঁর এক বন্ধু আবুল কালামের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা পান। সেই টাকা কালাম দিচ্ছেন না। এ কারণে বন্ধু জিতুকে নিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। অবশ্য পরে তাঁদের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবুল কালাম এ ঘটনায় থানায় ছিনতাইয়ের একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামুন বন্ধুর টাকা উদ্ধারের কথা বলার পর তাঁর (মামুন) বন্ধুকে থানায় ডেকে আনতে বলা হয়। মামুন তাঁর বন্ধুকে ফোন করেন। সেই বন্ধু মতিঝিল থানায় আসবেন বলে জানালেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও আসেননি। তাঁর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এ থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করেন, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই আবুল কালামকে তাঁরা জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়েছিলেন। বাকি সব সাজানো নাটক। পরে গতকাল রাতে জিতুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আবুল কালাম জানান, তিনি ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করেন। আর কনস্টেবল মামুন জিতু নামে যে বন্ধুর নাম বলছেন সেই নামে তিনি কাউকে চেনেন না। কেউ তাঁর কাছে টাকাও পায় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা