kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইউনিসেফের প্রতিবেদন

অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার এক-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইনে বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রতি তিনজন তরুণ-তরুণীর একজন উৎপীড়নের শিকার হচ্ছে। আর প্রতি পাঁচজনের একজন সাইবার উৎপীড়নের কারণে স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়েছে। ইউনিসেফ ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির (এসআরএসজি) করা এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। ‘ইউ-রিপোর্টে’র মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এই জরিপে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ বলেছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অনলাইন উৎপীড়নের সবচেয়ে পরিচিত স্থান। গত ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ৪৫ শতাংশ ইউ রিপোর্টার জানিয়েছে, তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হয়েছে। জরিপের অংশ হিসেবে অনলাইনে উত্পীড়ন ও সহিংসতা বন্ধের দায়িত্ব কার বলে মনে করেন—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয় তরুণ-তরুণীদের কাছে। জরিপের ৩২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানায়, অনলাইনে উত্পীড়ন বন্ধে সরকারকেই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এ ছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩১ শতাংশ এ ক্ষেত্রে তরুণসমাজের এবং ২৯ শতাংশ ইন্টারনেট কম্পানির দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে।

এসআরএসজির নাজাত মাল্লা মজিদ বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একত্রে আছি এবং অংশীদারির ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই দায়িত্বটি ভাগ করে নিতে হবে।’ ১৩-২৪ বছর বয়সী এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ইউ-রিপোর্টার এই জরিপে অংশ নেয়। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ, আলবেনিয়া, বেলিজ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বুরকিনা ফাসো, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, ফ্রান্স, গাম্বিয়া, ঘানা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জ্যামাইকা, কসোভো, লাইবেরিয়া, মালাবি, মালয়েশিয়া, মালি, মোলদোভা, মন্টিনেগ্রো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, রুমানিয়া, সিয়েরা লিওন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, ইউক্রেন, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ের তরুণরাও। সহপাঠীদের মধ্যে সাইবার উত্পীড়ন একটি উচ্চবিত্ত সমাজের বিষয় বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে এই বৈশ্বিক জরিপের ফল। উদাহরণস্বরূপ, উপসাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানায়, তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হয়েছিল। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী উচ্চ আয় ও নিম্ন আয়—উভয় শ্রেণির দেশগুলোর তরুণ জনগোষ্ঠীই আমাদের বলছে যে তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হচ্ছে; যা তাদের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলছে এবং এটি তারা বন্ধ করতে চায়। আমরা যেহেতু শিশু অধিকারবিষয়ক কনভেনশনের ৩০তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করেছি, তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নীতিমালার সর্বাগ্রে যাতে শিশু অধিকারের বিষয়টি থাকে, তা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা