kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বামীর লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্বামীর লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূর নাম নাসিমা বেগম (২৫)। মঙ্গলবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে গুরুতর জখম হওয়ার পর গভীর রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরপরই স্বামী মোখলেছুর রহমান (৩৫) ও শ্বশুর-শাশুড়ি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। গতকাল বুধবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গৃহবধূর ননদসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত নাসিমা বেগম নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর স্বামী মোখলেছুর রহমান পাশের আচারগাঁও ইউনিয়নের পুরহরি গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, কয়েক বছর আগে সামাজিকভাবে মোখলেছুর ও নাসিমার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পরই স্বামী দুবাই চলে যায়।

নাসিমার মা জহুরা বেগম বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে তাঁর মেয়ে তাঁকে জানায়, তিন লাখ টাকা যৌতুক দিতে। এ সময় এক সপ্তাহের সময় দিয়ে আবার তার ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী। এ অবস্থায় মারধরের পর তলপেটে লাথি মারলে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে  অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী মোখলেছুর রহমান তড়িঘড়ি করে স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের মা জহুরা বেগম আরো জানান, মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে খবর পেয়ে তিনি রাতেই হাসপাতালে ছুটে গেলেও মেয়েকে অচেতন দেখতে পান। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কোনো কথা বলা যায়নি। জহুরা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে তহনি এক রহম মরাই পাই। খালি দমডা আছিন। আমার শইলের (শরীর) উপরে মাথা রাইখ্যা খালি চোখের পানি পড়ছিন। এরপর হঠাৎ দমডা চইল্যা গেছে। এই খবর পাইয়া স্বামী ও তার মা-বাবা  হসপিটাল থাইক্যা পলাইয়া গেছে।’

এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমানের এক স্বজন দাবি করেন, লাথির আঘাতে মৃত্যু হয়নি। এর আগেও নাসিমার একবার গর্ভপাত হয়েছিল। তখনও সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা