kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা সমাবেশে গেঞ্জি সরবরাহ

দুই বিদেশি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আদ্রা ও আল মারকাজুল ইসলামী—এ দুটি এনজিও বিদেশি তহবিল পেয়ে থাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত আরো দুটি বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এনজিও দুটি হলো আদ্রা ও আল মারকাজুল ইসলামী। পাকিস্তানভিত্তিক আল খিদমাহ ফাউন্ডেশন ও তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে ওই এনজিও দুটি তহবিল পেয়ে থাকে। গত ২৫ আগস্ট কুতুপালং ক্যাম্পে লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশে এই এনজিও দুটির বিরুদ্ধে গেঞ্জি সরবরাহসহ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এনজিও ব্যুরো এ ব্যবস্থা নিল।

কক্সবাজারে এনজিও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের উপসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন ‘এনজিও ব্যুরোর নির্দেশনাটি আজই (গতকাল) হাতে পেয়ে এরই মধ্যে এনজিও দুটির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা শিবিরসহ কক্সবাজারে তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিতেও বলা হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৫ আগস্ট ভয়েস অব রোহিঙ্গা, রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিশন (আরআরসি) এবং রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) নামের তিনটি সংগঠন মিলে লাখো রোহিঙ্গার এ সমাবেশটির আয়োজন করেছিল। বিদেশি এনজিও আদ্রা এবং আল মারকাজুল ইসলামী সমাবেশ আয়োজনে নানাভাবে সহযোগিতা দেওয়ার প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে বলেও নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।

এনজিও ব্যুরো এরই মধ্যে আল মারকাজুল ইসলামী এবং আদ্রার বাংলাদেশের প্রধান অফিস রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের ঠিকানায় ওই নির্দেশনার চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যুরোর ওই নির্দেশনায় এনজিও দুটির ব্যাংকিং লেনদেনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে তার হিসাব-নিকাশ আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে দা, খোন্তা, কোদাল, কুড়ালসহ অন্যান্য অস্ত্রের আদলে কয়েক লাখ দেশি অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে স্থানীয় এনজিও মুক্তির ছয়টি প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে : এদিকে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য গতকাল বুধবার শিবিরগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার ফারুক হোসেন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজিবি, পুলিশ, আনসারের সমন্বয়ে যৌথভাবে শিবিরগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা