kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুন্সীগঞ্জে আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার নিয়ে তুলকালাম

র‌্যাব ঠেকাতে তিন কিমিজুড়ে ব্যারিকেড

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের মাদক ও অস্ত্র কারবারি ইউসুফ হাসান ওরফে ইউসুফ ফকিরকে (৪০) মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফকে পাকড়াও করে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবরোধ সৃষ্টি করে তাঁর অনুসারীরা। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার এই ঘটনার সময়ে র‌্যাব সদস্যদের পথ রুখে দিতে ইউসুফের সহযোগীরা সড়কে গাছ, সিমেন্টের খুঁটিসহ নানা কিছু ফেলে রাখে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত পাঁচ মামলার আসামি ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে সক্ষম হন অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব সদস্যরা।

সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুরে গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি পদপ্রার্থী ইউসুফ হাসানকে পাকড়াও করে র‌্যাব-১১। তাঁর কাছ থেকে ৪০৫ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিয়ার, মাদক বিক্রির ছয় লাখ আট হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর সহযোগী মিল্টন মল্লিক, জাহাঙ্গীর সরকারসহ সাত-আটজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ইউসুফ মহেশপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব-১১ ক্যাম্প কমান্ডার (পুলিশ সুপার) এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, মঙ্গলবার রাতে চরাঞ্চলের মাদক কারবারি এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, কয়েকটি মামলার আসামি ইউসুফ ফকিরের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাঁকে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকাসহ আটক করা হয়। এ সময় সহযোগীরা দীর্ঘ পথজুড়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে নানা তাণ্ডব চালায়। তিন কিলোমিটার সড়কে অন্তত ২০টি পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি, সিমেন্টের খুঁটি ও আশপাশের গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানে স্থানে পাটখড়ি ফেলে অগ্নিসংযোগ করে তারা। এমনকি নারীরা র‌্যাব সদস্যদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে সব বাধা অতিক্রম করে ইউসুফ হাসানকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে র‌্যাব-১১। তিনি বলেন, ‘এখন তার দেওয়া তথ্য মতে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলবে।’

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সদর থানা-পুলিশের একাধিক টিম মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অবস্থান নেয়। গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ইউসুফকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর সহযোগীরা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। র‌্যাব এলাকায় অবস্থান করার সময় পুরুষরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও মহিলারা আসামি ভাগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা চালায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, মহেশপুর ও আশপাশের গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান জানান, ইউসুফ ফকিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। র‌্যাব-১১ ক্যাম্প কমান্ডার মান্নান আরো জানিয়েছেন, মাদক ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা