kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাংবাদিকের ওপর হামলা

সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আপস করতে বললেন এমপি ফিরোজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আপস করতে বললেন সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। গতকাল বুধবার বাউফলে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সাংবাদিকরা হামলার ঘটনায় শাস্তির দাবি তুললে এমপি ফিরোজ বলেন, ‘যা হয়েছে তা সাংবাদিকরা যেন আপস করে ফেলে। ইউএনও, ওসি এবং ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তদন্ত করে যেন আপস করা হয়।’ এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা এমপি ফিরোজের বক্তব্যে ক্ষুুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা ওই সন্ত্রাসীদের শাস্তির জোর দাবি জানান।

গত মঙ্গলবার রাতে ইনকিলাবের বাউফল প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী মাসুমের ওপর হামলা করে ওই এমপির ভাতিজা ও কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন ফয়সাল মোল্লার দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত শফি হাওলাদার। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পীযূষ চন্দ্র দে, বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বুধবার সাংবাদিকরা বাউফল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জরুরি সভায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাঁরা আগামীকাল শুক্রবার মানববন্ধন ও শনিবার প্রতিবাদসভা করবেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে কালাইয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সরকারি বড় পুকুরের দক্ষিণ পানে সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন সাংবাদিক মাসুম ও প্রথম আলো প্রতিনিধি এ বি এম মিজানুর রহমান। এ সময় যুবলীগকর্মী শফি হাওলাদারের নেতৃত্বে তিন-চারজনের একটি দল মাসুমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। এ সময় সাংবাদিক এ বি এম মিজানুর রহমান বাধা দিলে তিনিও আহত হন। পরে গুরুতর আহত সাংবাদিক মাসুমকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সাংবাদিক মাসুম বলেন, ‘তাঁর (শফি) সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। কী কারণে শফি হামলা চালিয়েছে তা আমি জানি না। আমি হামলাকারীর বিচার চাই।’ এদিকে বাউফল থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী শফির বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মালক্রোক পরোয়ানা রয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার পর শফি এমপির বাসায় অবস্থান নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে শফির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শফি হাওলাদারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শফিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা