kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান

নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোরো মৌসুমে ধান ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ দূরে রয়ে গেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তবে সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলবে বলে সূত্রে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ৩১ আগস্টের মধ্যে মোট চার লাখ টন ধান ও ১০ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সারা দেশ থেকে মোট তিন লাখ ৭১ হাজার টন ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে ৯ লাখ ৪৯ হাজার টন।

খাদ্য অধিদপ্তর চাল সংগ্রহের জন্য প্রথমে গত মে মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছিল। এরপর তিন দিন সময় বাড়ানো হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে মিলারদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ চাল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় অধিদপ্তর। সর্বশেষ নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আরো ৫১ হাজার টন চাল সংগ্রহ করতে হবে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়। সারা দেশে ধানের দাম কৃষকদের উৎপাদন খরচের নিচে নেমে আসে। প্রতিবছরের মতো এবারও অধিদপ্তর এক লাখ ৫০ হাজার টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। পরে কৃষক যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে পারে সে লক্ষ্যে আরো দুই লাখ ৫০ হাজার টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ ২৬ টাকা কেজি দরে মোট চার লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তবে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, কৃষকরা নির্ধারিত দামে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেনি। কৃষকদের সুযোগ না দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরাই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি কৃষি অধিপ্তরের এক অনুষ্ঠানে ধান কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেন।

এদিকে মিলারদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি খাদ্য অধিদপ্তর। কারণ মিলাররা চাহিদামতো চালের জোগান দিতে পারেনি। অথচ চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে চাল দিতে না পারায় মিলারদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক জুলফিকার রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্যমাত্রা থেকে খুব বেশি দূরে নেই। তবে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে।’

জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। এ ছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ বন্ধ করা হলেও তা আগামী ৮ তারিখ থেকে পুনরায় চালু করা হবে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা