kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংকট কাটছে না রোকেয়ার হাসছে খেলছে রাবেয়া

আপনজনের মতোই প্রয়োজনীয় সব কিছু করছেন প্রধানমন্ত্রী ♦ গতকাল আরেকটি জরুরি অপারেশন করতে হলো রোকেয়ার

তৌফিক মারুফ   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার বছর ধরে আলোচনায় যমজ মাথার শিশু রাবেয়া রোকেয়া। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে সুদূর হাঙেরি হয়ে আবার দেশের মাটিতে ফিরেছে তারা। ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা তাদের চিকিৎসার চূড়ান্ত রূপ পায় গত ১ আগস্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তদারকি-সহায়তা-নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে প্রথম ও বিশ্বের ১৭ নম্বর ঘটনা হিসেবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয় রাবেয়া-রোকেয়াকে।

অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে শুরু করে রাবেয়া। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও এখন সে হাসছে-খেলছে কেবিনজুড়ে। তার ওই হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে যাচ্ছে গত চার বছর ধরে তাদের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সব পর্যায়ের চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। কিন্তু এখন কিছুটা শঙ্কা ও উদ্বেগ রয়েছে রোকেয়াকে নিয়ে। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই রোকেয়া বেশির ভাগ সময়ই থেকেছে ভেনটিলেটরের সাপোর্টে। এমনকি গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। বিকেলে জরুরি আরেক দফা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তার মস্তিষ্কে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জন্মের পর যখন থেকে এই জোড়া মাথার শিশু দুটি আমাদের নজরে আসে তখন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একেবারেই আপনজনের মতো তদারকি শুরু করেন শিশু দুটির সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার। বিদেশ থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা, পরে বিদেশে (হাঙেরি) নিয়ে চিকিৎসার মধ্যম ধাপ সম্পন্ন করার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা, দিকনির্দেশনা সব কিছুই করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের সীমাবদ্ধতা তিনি বারবার কাটিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি জানান, গত ১ আগস্ট দেশের ও বিদেশের বিশেষজ্ঞ দল মিলে রাবেয়া রোকেয়াকে আলাদা করা হয়। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সুরক্ষিত ও সর্বোচ্চ মানের ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। যার সুবাদে রাবেয়াকে এখন সুস্থই বলা যায়। কিন্তু রোকেয়া এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

ডা. সামন্ত লাল বলেন, ‘আমরা দিনরাত চেষ্টা করছি, সিএমএইচের চিকিৎসক টিমকে তাদের প্রত্যাশা অনুসারে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এখনো নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন রাবেয়া-রোকেয়ার।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই বিরল ঘটনায় আমাদের মতো সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত তরুণ একদল চিকিৎসক শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি হাঙ্গেরিতে রাবেয়া-রোকাইয়ার যত দিন চিকিৎসার বিশেষ ধাপে ছিল তত দিন তাদের সঙ্গে আমাদের বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকও ছিল। যাদের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশে এ ধরনের আরো উন্নত চিকিৎসার পথ খুলে যাবে। এখনো প্রতিদিনই রাবেয়া-রোকেয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তরুণ একদল চিকিৎসক।’

ডা. সামন্ত লাল জানান, পাবনার চাটমোহরে আটলংকা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পত্তির ঘরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই জন্ম নেয় বিরল ‘ক্রেনিওপেগাস টুইনস’ শিশু রাবেয়া-রোকেয়া। তাদের মতো জোড়া মাথা যমজ শিশুর অস্ত্রোপচার এর আগে বিশ্বে ১৬টি হয়েছে। সাফল্য এসেছে ১২ নম্বর অস্ত্রোপচার থেকে। রাবেয়া-রোকেয়ার অস্ত্রোপচার ১৭ নম্বর ঘটনা।

দুই শিশুর চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. সামন্ত লাল জানান, প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে প্রায় তিন বছর বিভিন্নভাবে প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসা চলে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের নেওয়া হয় হাঙ্গেরিতে। সেখানে পর্যায়ক্রমে ৪৮টি ছোট-বড় প্রস্তুতিমূলক সার্জারি হয়। এরপর গত ২২ জুলাই তাদের ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গত ১ আগস্ট রাত ১টায় ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামের অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শেষ হয় ২ আগস্ট সকাল ১০টায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা