kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শ্যামলীতে ছাত্রীকে গণধর্ষণ

প্রধান আসামি নাহিদ রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর শ্যামলীতে চাকরিপ্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে সাক্ষাৎকারের নামে নেশাজাতীয় পানীয়ের সাহায্যে অচেতন করে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি নাহিদ পাটোয়ারীকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে সিলেটের দরগাহ রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আনা হয়। গতকালই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শেরেবাংলানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামি নাহিদ ঘটনার পর পালিয়ে সিলেটে চলে যায়। সেখানে সে কোতোয়ালি এলাকার দরগাহ রোডের এক পরিচিত ব্যক্তির কটেজে আত্মগোপন করেছিল। স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিয়ে সোমবার রাতে তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে ঢাকার নারী-শিশু আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শক আজাদ আরো জানান, মামলার আরেক আসামি ফাহিম আহমেদ ফয়েজকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে আবার রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা ও ধর্ষিতা শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মৃত হোসাইনুজ্জামান পাটোয়ারীর ছেলে নাহিদ পাটোয়ারীর সঙ্গে এক বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় ওই শিক্ষার্থীর। মেয়েটি ধানমণ্ডির ১৫ নম্বর এলাকায় একটি ব্যাচেলর মেসে থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনে পড়ছেন। নাহিদ মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের ‘এফ’ ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর বাড়িতে থাকে এবং অনলাইনে মার্কেটিং ব্যবসা করে বলে দাবি করে। সম্প্রতি নাহিদ মেয়েটিকে শ্যামলীর ৩ নম্বর সড়কের ৩৫/১/বি ভবনের পঞ্চম তলায় ‘হেলথ ভিশন’ ক্লিনিকে প্যাথলজি বিভাগে চাকরির কথা জানায়। ওই চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিতে হবে বলেও জানায় নাহিদ। গত মঙ্গলবার শ্যামলীতে গেলে নাহিদই তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে নিয়ে যায়। সেখানে নেশাজাতীয় (মেয়েটার দাবি ওয়াইন) পানীয় রাখে তারা। সেটি কোকের বোতলে ঢুকিয়ে মেয়েটিকে কৌশলে পান করায়। এরপর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চেতনা ফিরলে গত বুধবার শেরেবাংলানগর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে ফয়েজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর জানা যায়, ঘটনাস্থলটি ক্লিনিক নয়, একটি ভ্যাকসিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ধর্ষণ করতেই নাহিদ ফাঁদ পেতে মেয়েটিকে সেখানে নিয়ে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা