kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাবি ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদ শেষ, হল কমিটির খবর নেই

হাসান মেহেদী, ঢাবি    

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ এক বছর। সেই হিসেবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এক মাস আগেই। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও এই কমিটি দিতে পারেনি নতুন হল কমিটি; যার মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে।

গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেয় বর্তমান কমিটি। এর সভাপতি হিসেবে আছেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন সাদ্দাম হোসেন। এদের মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির অধীনে থাকা আবাসিক হল কমিটি হয়নি।

আবাসিক হলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনেকেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন। এতে হলগুলো এখন আর তাঁদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ফলে প্রতিটি হলেই তৈরি হয়েছে নতুন নতুন উপদল। জটিলতা তৈরি হয়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রমে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। ১৮টি হলের ৩৬ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন ২১ জন। কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ডাকসুর সদস্য হয়েছেন একজন, হল সংসদের ভিপি ও জিএস হয়েছেন দুজন। বাকি ১২ জন কোনো পদ পাননি।

এদিকে হল কমিটির নেতারা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ডাকসু, হল সংসদে পদ পাওয়ায় হলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে হল কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া অন্য নেতারা গড়ে তুলেছেন এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন উপদল। নতুন হল কমিটিতে ঠাঁই পেতে শুরু করেছে তোড়জোড়। নেতার আস্থাভাজন হতে হলগুলোতে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ রেষারেষি। অন্যদিকে হল সংসদ নির্বাচনের ফলে নির্বাচিত ভিপি, জিএসরাই হলগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে বেশির ভাগ হলেই ‘হল শাখা ছাত্রলীগ’ ও হল সংসদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া যেসব হলে ছাত্রলীগের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সেসব হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ কমেছে। 

এই বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে হল কমিটির দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও হল শাখার দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য। হলগুলোতে সময়মতো নতুন কমিটি দেওয়া হলে দায়িত্বের বণ্টন হয়। সাংগাঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে।’

হল কমিটির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা হল কমিটির কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই সম্মেলনের মাধ্যমে হল কমিটি করা হবে।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘আগস্টে হল কমিটিগুলো করার চিন্তা-ভাবনা ছিল। শোক দিবসের কর্মসূচি থাকায় সম্ভব হয়নি। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই হল কমিটি হয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তিনি যে দিকনির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা