kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামির স্ত্রীকে ডেকে তুলে পুলিশ ও সোর্সের ‘ধর্ষণ’

পৃথক স্থানে অধ্যক্ষ ছাত্রসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোমবার গভীর রাতে আসামির বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মামলার বিষয়ে কথা আছে বলে ডেকে তোলেন এক পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্স। এরপর তাঁরা তাঁকে ধর্ষণ করেন। এই অভিযোগ করেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার একটি গ্রামের এক গৃহবধূ। ধর্ষণের পরীক্ষা করাতে তিনি নিজেই গতকাল মঙ্গলবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

এদিকে রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর লজ্জাতুন্নেছা কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিদার উল্লার (৪১) বিরুদ্ধে গতকাল থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন এক কলেজছাত্রী। নাটোরের সিংড়ায় বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে। নরসিংদীর মনোহরদীতে ধর্ষণে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার এবং বাগেরহাটের রামপালে একটি বিদ্যালয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। যশোরের অভয়নগরে এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আমাদের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

যশোর : ধর্ষণে অভিযুক্তরা হলেন শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খায়রুল ও তাঁর সোর্স কামারুল। গতকাল যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আগে আমার স্বামী চোরাচালানিদের পণ্য বহন করত। কিন্তু এখন কৃষিকাজ করে। ৯ দিন আগে (২৫ আগস্ট) এসআই খায়রুল আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ফেনসিডিল দিয়ে চালান করা হয়। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এসআই খায়রুল, সোর্স কামারুল এবং গ্রামের লতিফ ও কাদের নামের চারজন এসে আমাকে ডাকাডাকি শুরু করে। আমি অত রাতে দরজা খুলতে না চাইলে তারা বলে, স্বামীর মামলার ব্যাপারে কথা আছে। তখন আমি দরজা খুলি। দারোগা খায়রুল আমাকে বলে, ৫০ হাজার টাকা দিলে আমার স্বামীর মামলা হালকা করে দেবে। আমি বলি, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিয়েছেন। এখন বলছেন টাকা দিলে হালকা হয়ে যাবে। এ নিয়ে তার সাথে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তখন খায়রুল ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালি দেয়। এরপর ঘরের ভেতর নিয়ে খায়রুল ও কামারুল আমাকে ধর্ষণ করে।’

পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, অভিযোগ গুরুতর। ওই নারীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী : অভিযুক্ত দিদার উল্লা বরগুনার বেতাগী উপজেলার গ্রেদলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে। মামলার বাদী ছাত্রী জানান, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিদার উল্লা তাঁকে (ছাত্রী) শ্রীপুর লজ্জাতুন্নেছা কামিল মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এবং স্ত্রী-সন্তানরা বরগুনার গ্রামের বাড়িতে থাকায় তাঁকে বিয়ে করে রাজবাড়ীতে বসবাসের প্রতিশ্রুতি দেন। গত ৭ আগস্ট দুপুরে দিদার উল্লা তাঁকে ফোন করে নিজের রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন আব্দুর রহমানের ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

সিংড়া : সোমবার রাতে সিংড়ায় গ্রেপ্তার যুবকের নাম বুলবুল আহমেদ রাব্বি (২১)। সে উপজেলার দক্ষিণ দমদমা মহল্লার মৃত হোসেন আলীর ছেলে ও সিংড়া গোলই আফরোজ সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে ছয় মাস আগে ফেসবুকে রাব্বির পরিচয় ও প্রেম হয়। গত ১৩ মার্চ দুজন চলনবিলের কবিরগঞ্জ পার্কে বেড়াতে গেলে সেখানে রাব্বি বিয়ের প্রলোভনে তাঁর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করে এবং কিছু আপত্তিকর ছবি তোলে। পরে রাব্বি কিছু ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে এবং সম্পর্ক ছিন্ন ও তাঁকে (ছাত্রী) বিয়ে না করার হুমকি দেয়।

মনোহরদী : মনোহরদীতে গত ২৭ এপ্রিল নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম দুলাল মিয়া (৬০)। মেয়েটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করেছেন মেয়েটির বাবা। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার দুলাল মিয়া উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বীর মাইজদীয়া গ্রামের মৃত আ. জব্বারের ছেলে।

রামপাল : রামপাল উপজেলার তালবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাতে বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটে। ফরিদ উদ্দিন তালবুনিয়া গ্রামের সাহেব আলী আকুঞ্জীর ছেলে।

অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগরে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে গতকাল আটক হন শিক্ষক মিজানুর রহমান মুন্সী। উপজেলার নাউলী গোপীনাথপুর মিলনী দাখিল মাদরাসা থেকে তাঁকে আটক করে সিদ্ধিপাশা ক্যাম্প পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা