kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

একাদশ জাতীয় সংসদ

ভূমিকা ছাড়াই আলোচিত ছিলেন এরশাদ

উপস্থিতি মাত্র দুই দিন বক্তব্য দেননি

নিখিল ভদ্র্র   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভূমিকা ছাড়াই আলোচিত ছিলেন এরশাদ

সাদ এরশাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রংপুরে গতকাল এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দশম সংসদে বহু চেষ্টার পরও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারেননি একসময়ের স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। নিজের গড়া দল জাতীয় পার্টি ওই সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ সফল হন একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রাখতে পারেননি।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে এরশাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনটি অধিবেশন চললেও বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুই দিন। প্রথম অধিবেশন চলাকালে ১০ ফেব্রুয়ারি ও ৬ মার্চ খুবই অল্প সময়ের জন্য এরশাদ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ‘কার্য উপদেষ্টা কমিটি’র সদস্য হলেও এক দিনের জন্যও যোগ দেননি তিনি। সংসদে দুই দিন উপস্থিত হলেও কোনো বক্তব্য দেননি। সংসদ অধিবেশনের সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও তাঁর পরিবর্তে প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন তখনকার বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের। পরের দুটি অধিবেশনে বক্তৃতা করেন বিরোধীদলীয় নতুন উপনেতা রওশন এরশাদ। তবে এই সময়ে নানা ইস্যুতে সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচিত ছিলেন এরশাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ২২টি আসনে জয়ী জাতীয় পার্টি আদৌ বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে ছিল আলোচনা। এরপর এরশাদ আলোচনায় আসেন নির্ধারিত দিনে শপথ না নিয়ে। অসুস্থ এরশাদ হুইল চেয়ারে চড়ে সংসদে গিয়ে শপথ নেন ৬ জানুয়ারি। এরপর দলের কোনো ফোরামে আলোচনা ছাড়াই নিজেকে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা করেন। আবার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার আগেই গিয়ে বসেন বিরোধীদলীয় নেতার চেয়ারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

আগামী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব : স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আলোচিত এই বিরোধীদলীয় নেতার চেয়ারটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয় গত ১৪ জুলাই। ওই দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদের মৃত্যু হয়। এখন তাঁর জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। ওই দিন প্রস্তাবটি আলোচনা শেষে তা গ্রহণ এবং সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এর আগেই বিরোধী দল চাইলে তাদের নতুন নেতা নির্বাচিত করতে পারে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা