kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ফের সংঘর্ষ, ভাঙচুর

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ফের সংঘর্ষ, ভাঙচুর

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর তল্লাশি চালিয়ে এসব দেশি অস্ত্র ও মদের খালি বোতল উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ফের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিন শিক্ষকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রবিন গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক সাকিব মোশাররফ ধ্রুব গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. ফিরোজ আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী প্রভোস্ট ইকবাল হোসেন ও সহকারী প্রক্টর আল আমিন শিকদার আহত হন। হামলা-পাল্টাহামলায় আহত হয় ছাত্রলীগের সাত কর্মী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী প্রভোস্ট ইকবাল হোসেন বলেন, গত শনিবার রাতের সংঘর্ষের সমঝোতার জন্য গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রক্টরিয়াল টিম এবং প্রভোস্টরা আলোচনায় বসেন। এ সময় হলে অবস্থানরত কিছু ছাত্র এসে জানায় ক্যাম্পাসে বহিরাগত এনে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে এ নিয়ে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত ড. ফিরোজ আহমেদ জানান, দুই গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে মাথায় আঘাত করা হয়।

একপর্যায়ে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্যাম্পাসে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে রাত ২টার দিকে প্রক্টর এক ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। গভীর রাতে পুলিশ হেফাজতে আবাসিক ছাত্রদের নোয়াখালী শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার রাতে সালাম হলের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আবাসিক হলের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়। দুই দিনের সংঘর্ষের পর গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, রামদা, ছুরি, চাপাতি ও মদের বোতল উদ্ধার করে।

এদিকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক ড. ফিরোজ আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় মানববন্ধন করে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদার-উল-আলম বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা