kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নেত্রকোনায় রাজনৈতিক ফায়দা লুটার তোরণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেত্রকোনায় রাজনৈতিক ফায়দা লুটার তোরণ

এমন তোরণ শোভা পাচ্ছে নেত্রকোনা শহরের অনেক স্থানেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

চোখ ঝলসানো একের পর এক তোড়ন শোভা পাচ্ছে নেত্রকোনার বারহাট্টা ও সদরের বিভিন্ন সড়কে। মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই দেখা গেছে ১৭টি তোরণ। নেতাকে খুশি করে আর্থিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যেন তোরণ নির্মাণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে গত জুলাই মাসে স্থাপন করা আটটি তোরণ সবারই দৃষ্টি কাড়ে। এগুলোর উদ্যোক্তা সদর উপজেলার ২নং মেদনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান খান নোমান। এক প্রভাবশালী আমলার ছবি ছেপে ও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি শহরের বিভিন্ন মোড়ে বসিয়েছেন এসব তোরণ। অবশ্য অজ্ঞাত কারণে ইতিমধ্যে একটি বাদে বাকিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বারহাট্টা উপজেলার প্রধান সড়কে ১৭টি তোরণ চোখে পড়ে। জাতীয় শোকের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পছন্দের নেতাদের নাম ও ছবি রয়েছে ওই সব তোড়নে। কেউ সরকারি আমলার ছবি, আবার কেউ মন্ত্রীর ছবি দিয়ে এসব তোরণ নির্মাণ করেছে। এসবের মধ্যে বারহাট্টার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সাতটি, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাসেমের পাঁচটি, যুবনেতা নয়ন ফকিরের একটি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেনের দুটি তোরণ রয়েছে। আছে আরো অনেকে।

হঠাৎ এই তোরণের অভিনন্দন নিয়ে উপজেলা ছাড়িয়ে জেলায়ও চলছে নানামুখী আলোচনা। অনেকে অভিমত ব্যক্ত করে, গত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষের পোস্টার-ব্যানার ও তোরণের প্রচার জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে ভালো পদ পাওয়া ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলই ছিল ওই প্রচারের মূল উদ্দেশ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘জিল্লুর রহমান খান নোমান আওয়ামী লীগের এমন একজন যাত্রী যিনি সব সময় অগ্রিম টিকিট কাটেন। তিনি নিশ্চয়ই কোনো বেকায়দায় পড়ে নিজেকে বাঁচাতে হঠাৎ তোরণকে হাতিয়ার বানিয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে নিয়ে প্রচারে নামেন।’

এ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘তোরণ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নেতাকে খুশি করা এবং আর্থিক ও রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া। নেতা-নেত্রীর ছবি দিয়ে তোরণ নির্মাণ রাজনৈতিক ফটকাবাজদের কাজ।’ তিনি বলেন, ‘খায়রুল কবির খোকন যাঁর ছবি দিয়েছেন তিনি একজন আমলা। তিনি যখন রাজনীতি করবেন তখন আমাদের নেতা হবেন। এখন এটা দৃষ্টিকটু।’

নেত্রকোনা কৃষক সমিতির সভাপতি খন্দকার আনিসুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, ‘একজন কর্মরত আমলার ছবি দিয়ে তোরণ নির্মাণ শোভন নয়।’

এ ব্যাপারে খায়রুল কবির খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান নেত্রকোনার অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাই এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’

মাইনুল হক কাসেম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ গোলাম রসুল বলেন, ‘কাসেম ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলার ৬৫টি গাছ ও সরকারি পুকুরের মাছ কে বা কারা বিক্রি করে দিয়েছে যার কোনো রেজল্যুশন নেই নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।’

তবে সরকারি গাছ ও মাছ বিক্রির কথা জানেন না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘গত উপজেলা নির্বাচনে কাসেমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সবাই সমর্থন দিয়েছে। কেন্দ্র তাঁকে কেন মনোনয়ন দেয়নি জানি না।’

মাইনুল হক কাসেম কালের কণ্ঠকে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম রসুল আমার দুর্নাম করবেন এটাই স্বাভাবিক। উপজেলার গাছ ও মাছ আমি বিক্রি করেছি, যার রেজল্যুশন আমার কাছে আছে। বন বিভাগের অনুমতিও আছে। আর আমি আমার তোরণ খুলে নিয়েছি।’

এ ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাছ বিক্রির বিষয়ে আমি জানি না। আর গাছ বিক্রির অনুমোদন বিষয়ে জেনে জানাব।’ বন বিভাগকে তিনি চিঠি দিয়েছেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা