kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তদন্তাধীন বিষয়ে পুলিশের কথা বলা

নীতিমালা করার উদ্যোগ

ওমর ফারুক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলা নিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তদন্তাধীন বিষয়ে এসপির কথা বলার বিষয়টি যাচাই করে সে রিপোর্ট হাইকোর্টে দাখিল করতে পুলিশের আইজির প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনার পর তদন্তাধীন কোনো মামলার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের কথা না বলার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে মামলার কোন পর্যায়ে পুলিশ গণমাধ্যমকে কতটুকু বা কী জানাতে পারবে সে বিষয়ে নীতিমালা করতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে কোনো বড় ঘটনা ঘটলে সেটা জানার জন্য দেশবাসী উন্মুখ হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে কী তথ্য দেবে, কিভাবে দেবে তা একটি নীতির মধ্যে থাকাই ভালো। তথ্য না দিলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে মানুষ অন্ধকারেই থাকে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিনের আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ সময় আদালত বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী মিন্নির দোষ স্বীকার মর্মে বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অযাচিত-অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টিকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তফা কামাল উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তাধীন মামলা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নীতিমালা করা হবে। এ জন্য আন্ত মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি এই নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এতে স্বরাষ্ট্র, আইন, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা থাকবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে কোনো আলোচিত ঘটনা ঘটার পর পুলিশ যদি কোনো তথ্য না দেয় তাহলে গণমাধ্যমে প্রকৃত খবর না এসে উল্টাপাল্টা তথ্য আসে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় পুলিশ কিছু তথ্য, কিছু ধারণা দিয়ে থাকেন।’

এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো বড় ঘটনা ঘটার পর শুধু এসপি একা কিছু করেন না। কখন কী স্টেপ নিতে হবে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই নেন।’ তবে তিনি এ বিষয়ে নীতিমালা থাকা উচিত বলে মনে করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা