kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন

বন্য প্রাণীর হামলায় মৃত্যু পঙ্গুত্বে ক্ষতিপূরণ বাড়ছে

আরিফুর রহমান   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্য প্রাণীর হামলায় কেউ মারা গেলে বা পঙ্গুত্ব বরণ করলে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তার পরিমাণ বাড়ছে। বন বিভাগ থেকে তৈরি করা নতুন খসড়া বিধিমালায় ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির এ প্রস্তাব করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমন প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত মানুষের জানমালের ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত বিধিমালা ২০১৯-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, বন্য প্রাণীর হামলায় কেউ মারা গেলে তার পরিবার তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে। বিদ্যমান নীতিমালায় (২০১০ সালের) এ মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আছে এক লাখ টাকা। অর্থাৎ নতুন বিধিমালায় তা তিন গুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বন্য প্রাণীর হামলায় কেউ গুরুতর আহত, বিকলাঙ্গ কিংবা পঙ্গু হলে ক্ষতিপূরণের হার দিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বন্য প্রাণীর হামলায় কেউ আহত হলে এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। নতুন বিধিমালায় তা এক লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের বাইরে লোকালয়ে বন্য প্রাণী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষতি করলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খসড়া বিধিমালাটির ওপর বিভিন্ন অংশীজনের কাছে মতামত চেয়েছে বন বিভাগ। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ৫২ ধারার আলোকে বন বিভাগ এই খসড়া বিধিমালা তৈরি করছে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মিহির কুমার দো কালের কণ্ঠকে বলেন, একজন মানুষের জীবনের মূল্য টাকা দিয়ে নিরূপণ করা যায় না। এর পরও ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ক্ষতিপূরণের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। তিনি বলেন, গত এক দশকে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে। অর্থনীতির আকার বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এসব দিক বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের হারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে হাতির মাধ্যমে। হাতির আবাসস্থল দিন দিন কমে যাচ্ছে। বন উজাড় করে তৈরি হচ্ছে শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুেকন্দ্র। এ কারণে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। সংঘাত তৈরি হচ্ছে মানুষ ও হাতির মধ্যে। ১০০ বছর আগেও দেশে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০০। আইইউসিনের দেওয়া তথ্য মতে, দেশে এখন হাতির সংখ্যা ২৬৮। এক বছর আগে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মেঘালয় থেকে আসা হাতির আক্রমণে বেশ কয়েকজন মারা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, হাতির আবাসস্থল কমে যাওয়ায় মানুষের ওপর তাদের আক্রমণও বাড়ছে। এ কারণে হতাহত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্য প্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক বলেন, বনজঙ্গল কেটে মানুষ ফসল করছে। বাড়িঘর নির্মাণ করছে। অথচ সেই বনেই বাস করত বন্য প্রাণী। হাতির পর মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করছে বাঘ, মেছো বাঘ, শিয়াল, বাগডাশ ও কুমির। এসব বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও খাবার কমে যাওয়ায় তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। সে কারণে মানুষ ও বন্য প্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে।

বন্য প্রাণী দ্বারা মৃত ও আহত ব্যক্তির পরিবার কিভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে পারে, সে সম্পর্কে খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ঘটনা ঘটার এক মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সংশ্লিষ্ট বন অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা বরাবর ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে হবে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকবেন ওই কমিটির আহ্বায়ক। কমিটির অন্য তিন সদস্য থাকবেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী বন সংরক্ষক বা রেঞ্জ কর্মকর্তা। ওই কমিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে আবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য সরেজমিন তদন্ত করবেন। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জীবনহানির সত্যতা নিশ্চিত করার পর এক মাসের মধ্যে তাঁদের মতামত দিতে হবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা