kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা

সরকারের সব খেলা শেষ : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারের সব খেলা শেষ : বিএনপি

বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রা বের করে দলের নেতাকর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘সরকারের সব খেলা শেষ। তারা বিএনপিকে দুর্বল করতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্বল নয়, বরং দল এখন আগের থেকে আরো বেশি শক্তিশালী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগার থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজকের এই শোভাযাত্রা আমাদের সেই শক্তিমত্তাকেই প্রমাণ করে।’

বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীতে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে কাকরাইলে নাইটিঙ্গেল মোড় দিয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী শোভাযাত্রায় শামিল হওয়ায় শোভাযাত্রার সামনের দিক যখন শান্তিনগরের কাছে পৌঁছে তখনও পেছনের দিকটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই রয়ে যায়। এ অবস্থায় শোভাযাত্রাটি শান্তিনগর মোড় ঘুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা, রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এর মধ্যেই রাজপথে মশারি টানিয়ে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীরা এসিড মশা প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিষয়টি তুলে ধরে। এর আগে দুপুর থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশে জড়ো হতে থাকে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ফকিরাপুল থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশ চালাচ্ছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে এবং জনগণকে নির্যাতন ও হত্যা করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’ উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে নেই। আমাদের মনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, নেত্রীকে অন্যায়ভাবে তারা কারাগারে আটকে রেখেছে। আজ সরকারের সব খেলা শেষ। তারা আমাদের দুর্বল করতে চেয়েছিল। আমরা দুর্বল নই, আগের থেকে আরো বেশি শক্তিশালী। খালেদা জিয়া কারাগার থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করে, দেশের জনগণ দেশনেত্রীর সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে রয়েছে।’

শোভাযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, মাহবুবে রহমান শামীম, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, ইশরাক হোসেন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আফরোজা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করে সকাল থেকেই নয়াপল্টনসহ শান্তিনগর ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা