kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হরিরামপুরের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হরিরামপুরের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে

পদ্মার ভাঙনের কবলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রাম। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা গিলে খাচ্ছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার মানচিত্র। প্রবল ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এ উপজেলা। গত অর্ধশত বছরে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের পাঁচটি সম্পূর্ণরূপে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে আরো চারটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা। বর্ষার শুরু ও পানি কমতে থাকার সময়টাতে প্রতিবছরই ভয়ংকর হয়ে উঠছে পদ্মার ভাঙন। আর এতে নতুন করে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার নতুন নতুন এলাকা। পদ্মার ভাঙা-গড়ার এ খেলায় নিঃস্ব হাজার হাজার মানুষ অন্যত্র বসতি গড়তে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পদ্মার গর্ভে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়েছে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি, আজিমনগর, হারুকান্দি ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন। ভেঙে গেছে বয়ড়া, রামকৃষ্ণপুর, গোপীনাথপুর ও ধুলশুরা ইউনিয়নের বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। সম্প্রতি ভাঙনের শিকার হয়েছে উপজেলার বাহাদুরপুর বাজার এবং ধুলশুরা গ্রামের দুই শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক। নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে রামকৃষ্ণপুর, ধুলশুরা ও গোপীনাথপুর ইউনিয়নে। গত শুক্রবার নদীতে ভেঙে পড়েছে উপজেলার সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমলাপুর জামে মসজিদসহ অর্ধশত বসতবাড়ি। এ ছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে শতবর্ষী ইব্রাহীমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়।

ধুলশুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ খান জানান, সম্প্রতি সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তাঁর এলাকার দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও ভাঙন রোধে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‘পদ্মার ভাঙন থামাও হরিরামপুর বাঁচাও অন্দোলন’-এর কর্মী সোহাগ মুন্সী ও মাসুদুর রহমান জানান, পদ্মার ভাঙন রোধে আমরা ধুলশুরা ইউনিয়নের মির্জানগর থেকে বাল্লা ইউনিয়নের মালুচি পর্যন্ত একটি বাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। দাবির মুখে ২০১৬ সালে ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জানগর থেকে পয়মালী পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরে বাঁধটি আর সম্প্রসারণ করা হয়নি। বাঁধটি মালুচি পর্যন্ত করা হলে ভাঙন থেকে রক্ষা পেত হরিরামপুরের পদ্মাপারের মানুষ। নদীভাঙনের শিকার হয়ে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে হরিরামপুর উপজেলার মানচিত্র।

স্থানীয় সমাজকর্মী আবিদ হাসান জানান, পদ্মার ভাঙনে প্রতিবছর গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মওলা মো. মেহেদী জানান, নদীর ভাঙন রোধে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, নদীর ভাঙন রোধে টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা থেকে মাওয়ায় পদ্মা সেতু পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সার্ভে চলছে। বাঁধটি নির্মাণ করা সম্ভব হলে ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে পদ্মা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা