kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোলায়, বসুন্ধরার জাহাজটি তখন ছিল হাতিয়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোলায়, বসুন্ধরার জাহাজটি তখন ছিল হাতিয়ায়

বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজের বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও গতকাল সরেজমিনে গিয়ে জাহাজের গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার নিয়ে ‘তানভীর তাওসীফ-২’ জাহাজটি গত ২৭ আগস্ট রাত ১১টায় ভোলার বিরবিরি বয়া এলাকায় নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একই সময় ‘বসুন্ধরা ফুড-১’ খালি জাহাজটি নোঙর করা ছিল দুর্ঘটনার স্থান থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে হাতিয়া অ্যাংকরেজে (স্বাভাবিক গতিতে আট ঘণ্টার দূরত্ব)। ফলে বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজের ধাক্কায় তানভীর তাওসীফ-২ দুর্ঘটনায় পড়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবাস্তব ও আজগুবি।

জাহাজের শিপিং মাস্টার, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, পতেঙ্গা উপকূল থেকে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে অবস্থানরত বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজটি সরেজমিনে পরিদর্শনেও এত বড় জাহাজে সামান্য আঘাত বা দাগের খোঁজও মেলেনি। 

জানতে চাইলে বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর আমরা প্রথম জানতে পারি ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামে এসে; আমাদের হেড অফিসের মাধ্যমে। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম ২৭ আগস্ট তানভীর তাওসীফ-২ জাহাজটিকে নাকি আমরা ধাক্কা দিয়েছি। আমরা জাহাজ চালাচ্ছিলাম অথচ জানলাম না দুর্ঘটনার খবর। এটি কিভাবে সম্ভব?’

তিনি বলেন, ‘২৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় আমাদের জাহাজ বসুন্ধরা ফুড-১ দুর্ঘটনার স্থান অতিক্রম করে চলে আসে। ২৭ আগস্ট জাহাজটি যখন দুর্ঘটনায় পড়ে তখন আমাদের জাহাজটি হাতিয়া অ্যাংকরেজে নোঙর করা ছিল। ফলে ধাক্কা কিভাবে হলো?’

জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব আমদানি করা গম বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙর এবং কুতুবদিয়া এলাকা থেকে নদীপথে পানগাঁওয়ে পরিবহন করে থাকে বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজ। তিন বছর আগে তৈরি এই লাইটার বা ছোট জাহাজটি এক হাজার ৮০০ টন গম নামিয়ে পানগাঁও থেকে চট্টগ্রামের পথে ফিরছিল।

জাহাজটির রেজিস্টার ঘেঁটে দেখা যায়, ২৬ আগস্ট জাহাজটি পানগাঁও থেকে রওনা দেয়। ২৭ আগস্ট সেলিমবাজার ও হাতিয়া অ্যাংকরেজ এবং ২৯ আগস্ট রওনা দিয়ে ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম সি-বিচ এলাকায় সাগরে পৌঁছে। আবার ৩০ আগস্ট বিকেলে কুতুবদিয়া থেকে রওনা দিয়ে গম বোঝাই করে ৩১ আগস্ট বন্দরের বহির্নোঙরে ব্রাভো অ্যাংকরেজে নোঙর করে।

জানতে চাইলে বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজের মাস্টার আকবর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোলায় আর সেই সময় আমরা ছিলাম হাতিয়ায় নোঙর করা। সুতরাং আমাদের জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার অভিযোগ আজগুবি ছাড়া কিছু নয়। এটা জাপানের তৈরি পিওর লোহার জাহাজ; চারদিকে কোথাও আঁচড় লেগেছে কি না যাচাই করে দেখেন।’

পরে তাঁর কথার সত্যতা যাচাই করতে গতকাল দুপুরে স্পিডবোটে করে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজে যান এই প্রতিবেদক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা