kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবির উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলন নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগকে মিথ্যাচার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা বাধাগ্রস্তকারী আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’।

গতকাল রবিবার দুপুরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান।

তিনি বলেন, ‘একনেকে পাস হওয়া ১৪৪৫ কোটি টাকা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এই টাকা রাষ্ট্রের সব জনগণের। এই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা তিনি শুধু প্রকাশিত-প্রচারিত মিথ্যা-কল্পিত অভিযোগ বলে দিয়েই দায় এড়াতে পারেন না।’

এ সময় তাঁরা দাবি করেন, ‘গণমাধ্যমে লুটপাটের যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ যৌক্তিক। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, সে ক্ষেত্রে তিনি এটার কোনো তদন্ত করতে পারেন না। তাই আমরা এই দুর্নীতির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে গানের মিছিল’ করে আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য রাকিবুল রনি, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল উজ-জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।

এদিকে আন্দোলনকারীদের দাবিকে মিথ্যাচার এবং মহা-উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্তকারী বলে প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে দুপুর আড়াইটায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘প্রথমে অপরিকল্পিত বলে ও পরে অর্থ লেনদেনের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রদের একাংশ কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, যা মোটেও শিক্ষাবন্ধব নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের জোট করে অপরিকল্পিত উন্নয়নের তকমা লাগিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছে। সবার পরিশ্রমে একটি নিখুঁত পরিকল্পনা হয়েছে বলেই তা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং একনেক থেকে অনুমোদিত হয়েছে। তাই জাবির এই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অপরিকল্পিত বলার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস ও আবাসিক হল নির্মাণের স্থান পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে আন্দোলন করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা